আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি’র রাঙামাটি ইউনিট এর নির্বাচনে এমনই ‘নজিরবিহীন জাল ভোট’ ও ‘অনিয়ম’ এবং ‘হামলার চেষ্টা’র অভিযোগে ভোট শেষ হওয়ার তিনঘন্টা আগেই নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন সাধারন সম্পাদক প্রার্থী সৈকত রঞ্জন চৌধুরী।
দুপুর একটায় নির্বাচন থেকে সড়ে গিয়ে বেলা আড়াইটায় রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই বিপুল সংখ্যক ছাত্রলীগ,যুবলীগ,শ্রমিকলীগ নেতাকর্মী অবস্থান নেয় ভোটকেন্দ্র শহীদ আব্দুল আলী একাডেমিতে। রাঙামাটির কাউখালি,কাপ্তাই এবং বাঘাইছড়ি থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অবস্থান দেখে স্থানীয় এলাকাবাসিও বিস্মিত হয়। এসময় তৎপর দেখা যায় পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মনসুর আলী, রাঙামাটি অটোরিক্সা চালক সমিতির সাধারন সম্পাদক শহীদুজ্জামান রোমানকে। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই ভোটারলিস্ট চেক করে করে অনুপস্থিত ভোটারদের ভোট দিতে শুরু করেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রের বাইরে ভোট দিতে আসা নেতাকর্মীদের জন্য ছিলো ভূড়িভোজের আয়োজন।’
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরো অভিযোগ করেন, একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্চাসেবি সংগঠন রেডক্রিসেন্ট এর নির্বাচনে নজিরবিহীন জালভোট প্রদান,নির্লজ্জ দলীয়করণ এবং হামলা চেষ্টার মাধ্যমে সকল রীতি নীতির উপরই আঘাত করা হয়েছে। দলীয় কর্মীদের নতুন ভোটার করা,কেন্দ্র পরিবর্তন করে একটি বিশেষ এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং একজন প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপকভাবে দলীয় প্রচারণার প্রেক্ষিতে আমি আগেই এই রকম কিছু শংকা করেছিলাম এবং নির্বাচনের ১২ দিন আগেই লিখিত অভিযোগও করেছিলাম,কিন্তু নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমি নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়াতে বাধ্য হলাম। আফসোস, একটি নির্দলীয় প্রতিষ্ঠানকে নির্লজ্জ দলীয়করণ করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়া হলো।’
সৈকত বলেন,‘আমি জালভোটের প্রতিবাদ জানালে আমার দিকে তেড়ে আসে যুবলীগ নেতা এনএম জাহাঙ্গীর,তৈয়ব আলীসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। পরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের চাপের মুখে আমাকেই কেন্দ্র থেকে বের করে দিতে দফায় দফায় চেষ্টা করে পুলিশ। এরই এক পর্যায়ে দুপুর একটায় নির্বাচন থেকে সড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসি আমি।’
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য মাহফুজুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক চেম্বার নেতা বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি, আমি একটা জটলা দেখে সবাইকে সড়িয়ে দিয়েছি। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার জন্য ১৬ জন পুলিশ ছিলো,ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। আর কারো ভোট কেউ দিয়ে দিলেও আমি সেটা জানিনা,কেউ আমাকে বলেনি।’ নির্বাচন অবাধ,নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

৫ Comments
এই ঘৃনীত কাজের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি…!!!
এইভাবে চলতে থাকলে হারিয়ে যাবে মানবসেবী সংগঠন সমূহ..
হারিয়ে যাবে মানবতা…!!!
যা ভেবেছিলাম
জালভোটের যুগে তাকে কি আর ভোলা যায়!
লোক দেখানো নির্বাচন দেওয়ার দরকার কি ?সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট ।
যে অবস্হা দেখলাম, মনে হয় ডোনাল্ট টার্ম যেন হিলারী কে হারায় দিছে, সকলে মোরা সকলের তরে।