আরমান খান, লংগদু
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের মানুষকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহবান জানান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ একটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে ২০২১ সাল থেকে সরকারিভাবে উদযাপন করা হয়। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও দিবসটি পালন করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু দিবসটি পালন করেনি রাঙামাটির লংগদু উপজেলার একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লংগদু সরকারি মডেল(ডিগ্রী) কলেজ।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি সূত্রে জানা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঐতিহাসিক ভাষণের তাৎপর্য তুলে ধরে ‘ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় কর্মসূচীর সাথে সংগতি রেখে পালনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ‘ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দিবস’ ২০২৩ প্রভাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচারের ব্যবস্থা করা। জাতীয় কর্মসূচির সাথে সংগতি রেখে অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি প্রণয়নপূর্বক উক্ত দিবসে অথবা সুবিধাজনক দিনে ‘ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দিবস’ উদযাপন। শিক্ষার্থীদের নিয়ে উক্ত দিবসে অথবা সুবিধাজনক দিনে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতা, ছড়া পাঠ, কবিতা পাঠ ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ সম্প্রতি অবসরে গেছেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারি অধ্যাপক মো. আজগর আলী। উনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই ছিল জাতীয় কোনো দিবস উদযাপনের উপলক্ষ। কিন্তু শুধুমাত্র উপজেলা সদরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেই দিবসের কর্মসূচি শেষ করেছেন তারা। কলেজে গত (৯ মার্চ) বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দিবসটি পালনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। দিবসটি পালন করার বিষয়ে কলেজের অন্যান্য শিক্ষকদের সাথেও কোনো প্রস্তুতি সভা করেননি বলে জানায় কয়েকজন শিক্ষক।
কলেজে ৭ই মার্চ উদযাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়কেজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাবেতা মডেল কলেজ’ নামে এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছে যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি মীর কাশেম আলী। প্রতিষ্ঠলগ্ন থেকে কলেজটি জামায়েত ইসলামির নিয়ন্ত্রণে ছিল। ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকে শিক্ষক নিয়োগ পর্যন্ত সবকিছুই জামাত আদর্শের লোকজনই নিয়ন্ত্রণ করতো। কয়েক বছর হলো কলেজটি জাতীয়করণ করতে সেই নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে এসেছে। এমনকি কলেজের পূর্বের নামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে এখনো কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জামায়াতের পরামর্শ নিয়ে কাজ করেন। জাতীয় দিবসগুলো দায়সারা পালন করা হলেও ৭ই মার্চ, ১৭ই মার্চ, ১৫ আগস্ট পালনে তাদের কোনো আন্তরিকতা নেই। বেশিরভাগ সময় এই দিবসগুলো পালন করা হয়না। গত বছরও ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস ও জাতির জনকের জন্মদিনে কোনো আয়োজন করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আজগর আলী বলেন, ৭ই মার্চ পালনের বিষয়ে অধিদপ্তরের চিঠি পেয়েছি ৬ তারিখে। ফলে দিবসটি পালনের জন্য প্রস্তুতিমূলক কোনো সভা করার সুযোগ হয়নি। এরপর ৭ ও ৮ তারিখে কলেজ বন্ধ থাকায় ৯ তারিখে আমরা শুধুমাত্র কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। তবে ৭ই মার্চ সকালে উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেছি এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছি।
