নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
‘বঙ্গবন্ধুর অবদান কৃষিবিদ ক্লাস ওয়ান’ কৃষিবিদদের এই প্রাণের স্লোগানকে বুকে লালন করে সোমবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি), রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কৃষিবিদ দিবস ২০২৩ পালন করা হয়। এ উপলক্ষে এক র্যালি এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দিবসের শুরুতে রাঙামাটি জেলার সর্বস্তরের কৃষিবিদদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের বনরূপাস্থ কেআইবি জেলা কার্যালয় থেকে শুরু হয়। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি কৃষিবিদ রমনী কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি জেলার অবসরপ্রাপ্ত উপপরিচালক প্রবীণ কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। কৃষিবিদ আবু মো. মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষিবিদগণ ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক কৃষিবিদদের সরকারি চাকুরীতে প্রথম শ্রেণীর পদমর্যাদায় উন্নীত করার ঘোষণাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, এক সময় কৃষি পেশাকে অমর্যাদার চোখে দেখা হতো, যার ফলে মেধাবি তরুণেরা পেশা হিসাবে কৃষি শিক্ষাকে বেছে নিতে অনীহা প্রকাশ করত। কিন্তু অত্যন্ত দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু বিষয়টা উপলব্ধি করে কৃষি গ্রাজুয়েটদের প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করায় দেশের মেধাবি সন্তানেরা কৃষি শিক্ষায় আগ্রহী হয়। এর ফলশ্রুতিতে দেশে আজ কৃষি গবেষণা, কৃষি সম্প্রসারণ (কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) ও কৃষি শিক্ষায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। জনসংখ্যা ২ গুণেরও বেশি বাড়লেও খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৩ গুণ।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষিবিদ রমনী কান্তি চাকমা বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে সোনালি ফসলে ভরপুর দেখতে চেয়েছিলেন। সে কারণেই স্বাধীনতার পর তিনি ডাক দিয়েছিলেন সবুজ বিপ্লবের। কৃষিবিদরা বঙ্গবন্ধুর দেওয়া মর্যাদাকে বুকে ধারণ করে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষিবিদদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের কৃষির উন্নয়নে কৃষিবিদদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ তপন কুমার পাল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি অঞ্চলের প্রাক্তন অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ পবন কুমার চাকমা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের উপ পরিচালক কৃষিবিদ প্রসেনজিত মিস্ত্রীসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।
