হেফাজত সবুজ
জরায়ুমুখ ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষ্যে সচেতনতামূলক র্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের গাইনেকোলোজি এন্ড অবস্টেট্রিক্স বিভাগ ও মেডিসিন ক্লাবের উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় করেছে ওজিএসবি, চট্টগ্রাম শাখা।
অধ্যাপক ডা. মাজহারুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারের প্রধানবক্তা ছিলেন গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের প্রধান ডা. নাসিমা বেগম। তাছাড়াও বক্তব্য রাখেন ডা. মনোজ বড়ুয়া, ডা. হেনা বড়ুয়া, ডা. বিলকিস ফাতেমা ও ডা. নাজমুল আহসান। এসময় বক্তারা বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার হলো নারীদেহের জরায়ুর নিচের অংশে বা মুখে স্বাভাবিক কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন। বিশ্বব্যাপী নারীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই ক্যান্সার। জরায়ুমুখ ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি, তবে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে এর কারণ হচ্ছে- হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। যা যৌন সংযোগের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। সংক্রমনের এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জরায়ুমুখের স্বাভাবিক কোষ পরিবর্তিত হতে থাকে এবং একসময় তা ক্যানসারে রূপ নেয়। এ সময় দ্রুত রোগ নির্ণয় করা গেলে এই ক্যান্সারের মৃত্যুর হার অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই সব নারীদের নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষার পরামর্শ দেন বক্তারা। বক্তারা আরও বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে প্রথম সন্তান প্রসব, অধিক সন্তান প্রসব, স্থূলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, দীর্ঘদিন যাবৎ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন, নিয়মিত নারীদের স্বাস্থ্য চেকআপ না করানো, শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণেন এ রোগ হতে পারে। কমিউনিটি লেভেলে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। 
সেমিনারে রাঙামাটি শহরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। ৷ অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার ও ভ্যাক্সিনেশন সম্পর্কে প্রচলিত অনেক ভ্রান্ত ধারনা সম্পর্কে জানতে পারলাম। আগাম কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত সেটাও জানতে পারলাম। এমন আয়োজন নিযমিত হলে আমাদের মত আরো অনেকেই এই ব্যধী সম্পর্কে জানতে পারবে।
মেডিসিন ক্লাবের সভাপতি দীপ্ত দাশ তীর্থ বলেন, নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষার মাধ্যমে এই ক্যানসারের আক্রমণ হার কমিয়ে আনা সম্ভব। স্ক্রিনিং পরীক্ষা হলো রোগের লক্ষন এখনও প্রকাশ না পাওয়া আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ নারীর নিয়মিত চেকআপ করানো প্রয়োজন। যাতে ক্যান্সারটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে। এক্ষেত্রে, ভায়া টেস্ট অথবা প্যাপ টেস্ট ব্যথামুক্ত এবং খুবই সাশ্রয়ী পরীক্ষা করা যায়। তার মাধ্যমে খুব সহজে এই রোগ সনাক্ত করা যায়। জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ “প্যাপিলোমা ভাইরাস” এর ভ্যাক্সিনেশন বা টিকা প্রদানের মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধ করা যায়। আমাদের ক্লাবের মাধ্যমে যে কোন নারী এই সেবা সমূহ গ্রহণ করতে পারবেন। রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের মেডিসিন ক্লাবে পূর্বেই ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচি উদ্বোধন হয়েছে যা এখনো চলমান রয়েছে।
