শুভ্র মিশু
মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালি, ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। মেঘ পাহাড়ের লুকোচুরি উপভোগ করতে সারা বছর পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে এই স্থান। আর লম্বা বন্ধে এই সংখ্যা বেড়ে যায় বহুগুণ। কিন্তু পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সরু সড়কে প্রায়শ ঘটছে দুর্ঘটনা। গত একসপ্তাহে চারটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ গেছে এক তরুণের, আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন। সবশেষ সোমবার দুপুরেও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এতে চার পর্যটক আহত হয়েছে। সরু সড়ক ও চালকদের অদক্ষতা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলের কারণে এধরনের ঘটনা ঘটছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা জানায়, গত ২০ডিসেম্বর একটি জিপ প্রায় তিনশত ফুট নিচে খাদে পড়ে যায়। তারপর ২১ ডিসেম্বর একটি লেগুনা দুর্ঘটনা ঘটে। ২৩ডিসেম্বর সাজেক যাওয়ার পথে মোটরসাইকে জিপ সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক তানভির মারা যায়। সর্বশেষ সোমবার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে একটি জিপ। এতে ৪জন পর্যটক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সাজেকে সড়ক দুর্ঘটনা নতুন নয়। পাহাড়ি আঁকাবাকা সরু সড়ক ও অদক্ষ চালকের কারণে প্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় পর্যটকরা আহত এবং বিভিন্ন সময়ে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা উথোয়াই জানান, সরু সড়ক হওয়ায় পাহাড় থেকে গাড়ি নামার সময় ও অপর দিক থেকে গাড়ি উঠার সময় বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও অনেক চালক বেপোরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পর্যটকরা আহত ও নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় প্রায়শ।
পটুয়াখালি থেকে সাজেক আসা পর্যটক নিজাম উদ্দিন জানান, সাজেকে আসার পথটা খুবই ছোট দেখলাম। গাড়ি যখন পাহাড় উঠছিল আর অপর পাশ থেকে গাড়ি নামছিল খুব গতিতে তখন খুবই ভয় লাগছি। এইবুঝি সংঘর্ষ হলো। এই সড়ক প্রশস্ত করার প্রয়োজন।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি চাইথোয়াই অং চৌধুরী জানান, সাজেকে প্রকৃতি উপভোগে এখন পর্যটক আসার হার বাড়ছে। যার কারণে সড়ক প্রশস্ত করা এখন সময়ের দাবি।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা জানান, সাজেকে পর্যটক আসার হার দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা খবর আমরা পাচ্ছি। এই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের কাছে সড়কটি প্রশস্ত করণের দাবি জানাচ্ছি।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, সাজেক বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে অনেক দূরে, সেখানে প্রতিনিয়ত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন। তবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।
