দীঘিনালা প্রতিনিধি
ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট বাতিল ও ৬ সাংবাদিকের নামে দায়ের করা হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার সংবাদকর্মী,সুশীল সমাজ,রাজনৈতিক কর্মীসহ সকল স্তরের মানুষ।
বুধবার সকালে দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ চত্বরে দীঘিনালা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানান তারা।
প্রেসক্লাব সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রাজুর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, এটিএন বাংলার জেলা প্রতিনিধি আবু দাউদ, প্রেসক্লাব সেক্রেটারী জাকির হোসেন,মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান সুমন, সাংবাদিক আক্তার হোসেন ও রেডক্রিসেন্ট যুব ইউনিটের রিফাত। এছাড়া মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং কলেজ শিক্ষার্থীসহ শতাধিক লোক অংশ গ্রহন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শুধু সংবাদের কারণেই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখির অজুহাত দিয়েও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়া হচ্ছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। এই আইনে একের পর এক মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের গ্রেফতারসহ হয়রানি করা হচ্ছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে আইনটি বাতিল, অথবা বাতিল করা সম্ভব না হলে সংশোধনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন পার্বত্য রাঙামাটি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুর মেয়ে নাজনীন আনোয়ার। এ সময় সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে আগামী ১৩ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ছয় সাংবাদিকসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা ফেসবুকে পোস্ট করার কারণে বাদী এবং তার মা (সাবেক এমপি ফিরোজা বেগম চিনু) সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অপদস্ত হয়ে মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ২৩, ২৫, ২৬, ২৯, ৩১, ৩৪, ৩৫ ও ৩৭ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে একই বাদিনীর দায়ের করা মামলায় ৭ জুন রাঙামাটি দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডট কম সম্পাদক ফজলে এলাহীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরদিন জামিনে মুক্ত হন তিনি।

