জয়নাল আবেদীন, কাউখালী
অংক্যজ চৌধুরী সভাপতি ও মো. নাজিম উদ্দিন’কে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কাউখালী উপজেলা শাখা কমিটি, ৬ মার্চ ২০১২ সালে অনুমোদন দেন তৎকালীন জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. জমির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মিন্টু মারমা। এর মাঝেই কেটে গেছে সাড়ে ১০টি বছর। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে সাড়ে ১০ বছরে সম্মেলন করা হয়নি শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড খ্যাত এই সংগঠটির।
অবশেষে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দলকে নতুন করে সাজাতে কাউখালী উপজেলা যুবলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছে রাঙামাটি জেলা যুবলীগ।
২০ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল’র স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক এর নির্দেশে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে আগামী ৬ অক্টোবর কাউখালী উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী প্রার্থীদের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
সম্মেলনের তারিখ ঘোষনার পর চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে সংগঠনটির বর্তমান নেতাকর্মী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। সম্মেলনের তারিখ ঘোষনার পর চাঞ্চল্য ফিরে এলেও এখনো প্রকাশ্যে আসেনি সভাপতি ও সম্পাদক পদে সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী। তবে সাংগঠকি সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে পারে ডজনেরও বেশি।
সম্মেলন সফল করতে উপজেলা যুবলীগের কমিটির সকল সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সম্পাদকদের নিয়ে এরই মধ্যে প্রস্তুতি সম্মেলন সভা সম্পন্ন করেছে বর্তমান সভাপতি অংক্যজ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কাউখালী উপজেলা যুবলীগ।
প্রস্তুতি সভার পর থেকে সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, উপজেলা ও ইউনিয়ন যুবলীগ নেতাকর্মীদের সাথে বাড়ি বাড়ি অথবা দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরীর পুত্র অভিমং চৌধুরী। এ পদে এখনো আর কেউ প্রকাশ্যে না আসলেও দলীয় কর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন চলছে সভাপতি পদে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিতে পারেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন।
নাজিম উদ্দিনের পক্ষে এখনো কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের পক্ষ থেকে স্ট্যাটাস না পাওয়া গেলেও চেয়ারম্যান পুত্রের জন্য দোয়া ও সভাপতি হিসেবে দেখতে চাই এমন স্ট্যাটাসে সয়লাব ফেসবুক।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে দোয়া চেয়েছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম প্রকাশ শরীফ মেম্বার। একই পদে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছে সাবেক বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম এর ভাগিনা যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদের সোহেল।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ডজনেরও বেশি প্রার্থী হতে পারে বলে জানিয়েছেন এ পদে নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের কয়েকজন। এর মধ্যে নিজের প্রার্থীতার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. সাজ্জাদ হোসেন, ঘাগড়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা সেন্টু তালুকদার, বর্তমান উপজেলা যুবলীগ কমিটির সদস্য পরিমল দাশ।
সভাপতি পদে প্রার্থী অভিমং চৌধুরী প্রার্থীতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘ ছাত্র রাজনীতি জীবন শেষে এখন যুবলীগের সভাপতি পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছি। দলের সিনিয়র নেতাকর্মী ও কাউন্সিলদের যথেষ্ঠ সমর্থন পাচ্ছি যা আপনার দেখতে পাচ্ছেন। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সময়কে অবশ্যই দলের নীতি নির্ধারকরা মূল্যায়ন করবেন। যদি মূল্যায়ন করা হয়, তবে সভাপতি অবশ্যই হবে বলে মনে করেন তিনি।
অভিমং ও নাজিম সভাপতি পদে প্রার্থী হলেও তাদের নেতৃত্বেই আগামীর যুবলীগ গঠিত হবে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন চলছে প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন আসলে বিভিন্ন ধরনের কথা আসবে এটাই স্বাভাবিক। আওয়ামীলীগের সিনিয়র লিডার ও যুবলীগের কাউন্সিলররা ঠিক করবেন কাদের নেতৃত্বে আগামীর যুবলীগ গঠিত হবে।
প্রার্থীতার বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে না আসা নাজিম উদ্দিনের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান, ৩০ তারিখের মধ্যে যেহেতেু জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে হবে, তাই সভাপতি পদে সিভি জমা দিবো। তারপরেও আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে প্রার্থীতার বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের জানাবো।
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল জানান, দীর্ঘ বছর পর কাউখালী উপজেলা যুবলীগের সম্মেলনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুত গ্রহণ করা হয়েছে। সম্মেলনে জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আকবর হোসেন সম্মেলনের উদ্বোধক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকার তালুকদার এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান তিনি।
