জিয়াউল জিয়া ॥
প্রথম দেখাই মনে হতে পারে এটি কোন ট্রাক টার্মিনাল। আসলেই এটি রাঙামাটির যাত্রী সেবার একমাত্র কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অযতœ ও অবহেলায় পড়ে আছে টিকিট কাউন্টারগুলো। অপেক্ষমান যাত্রী বাসার স্থানে চেয়ারগুলো এখন আর নেই।
আন্তঃজেলা ও দুরপাল্লার বাস রাখা, টিকেট সংগ্রহ ও যাত্রী সেবার লক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড শহরের ফিসারি বাঁধ এলাকায় ১৯৯৪ সালে প্রায় ৪ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাস টার্মিনাল নির্মাণ করে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সড়কে তৈরি রয়েছে খানাখন্দর। এতে সুবিধা পাচ্ছে না রাঙামাটিবাসী।
যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মাণ করা কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাস টার্মিনালটি ব্যবহার হয়েছে মাত্র ছয় মাস। অনেকটাই পরিত্যক্ত রাঙামাটি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। দখলে চলে গেছে টার্মিনালের অনেক জায়গা। জায়গা অবৈধ দখল ও নানা অভিযোগে টার্মিনালটি ব্যবহার না করার ঘোষণা দেন তৎকালীন সময় বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতারা। টার্মিনালটি আবারও চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানানেল সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে বাস মালিক সমিতি টার্মিনালটি ব্যবহার না করে শহরের সরু সড়কের যেখানে সেখানে যাত্রী তোলায় শহরে সৃষ্টি হয় যানযটের। এদিকে টর্মিনালটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় মাদকসেবীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। কিছু বাস থাকলেও রাতে তেলসহ ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ চুরি হয় বলে অভিযোগ পরিবহন শ্রমিকদের। অবৈধ দখলমুক্ত করে টার্মিনালটি আবারও চালু হলে সকলে উপকৃত হবে বলে জানান শ্রমিকরা।
বাস চালক মো. ইলিয়াস ও মাসুদ রানা জানান, টার্মিনালটি হলে সকল চলকদের সুবিধা হবে। কারণ সড়কে বাস রেখে যাত্রী তুলতে সমস্যা হয়। আর এখানে থাকলে সময় মত যে যার মতো করে বাস নিয়ে গন্তব্যে চলে যাওয়া সহজ হবে। বাস টার্মিনালটি চালু বন্ধ থাকায় রাতে মাদকসেবীরা বাসের তেলসহ ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ চুরি করে। এর ফলে আর্থিকভাবেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
আরেক চালক মো. ইয়াকুব আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টার্মিনালটিতে শুধু বাস রাখা হয়। দুই পাশে নানা লোকজন দিন দিন অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে। প্রশাসন এই দখল উচ্ছেদে কোন প্রদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা চাই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। তাই টার্মিনালটি চালু জরুরি।
চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মটর মালিক সমিতি নানা অযুহাতে টার্মিনালে আসতে চায় না। যার ফলে দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানও হচ্ছে না। চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মটর মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান টার্মিনাল সচল করতে সুস্পষ্ট কোন বক্তব্য না দিয়ে বলেন, টার্মিনালে বাস রাখা হয় কিন্তু যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে রির্জাভ বাজার কাউন্টার থেকে বাসগুলো ছাড়া হয়।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জনসাধারণের ভোগান্তি ও বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী তোলায় শহরের যানযটের সৃষ্টি কথা স্বীকার করে বলেন, আগামী আরটিসি সভায় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড যাত্রী সেবার কথা চিন্তা করে টার্মিনাল তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু টার্মিনাল চালুর ব্যাপারে বাস মালিকদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাকে জায়গা দিলে টার্মিনালটি আরো আধুনিক করে গড়ে তোলার চেষ্টা করবো।
