খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমি ত্রিপুরাকে মারধরের ঘটনার মামলায় জামিন পেলেন অভিযুক্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) সুভায়ন খীসা। রোববার দুপুরে খাগড়াছড়ির সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদুল আলম আসামি পক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন হাজার টাকা বন্ডে এ জামিন মঞ্জুর করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশুতোষ চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাদীর মেডিকেল রিপোর্ট আদালতে না আসা পর্যন্ত সুভায়ন খীসা-কে জামিন প্রদান করেছেন আদালত। জামিন আবেদনের জন্য ৬ জন আইনজীবি আবেদন করেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু বলেন, মামলার বাদীর অভিযোগসহ সার্বিউক বিষয় উপস্থাপন করে আসামির জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছে। আসামি পক্ষের প্রভাবে বাদী শঙ্কিত বিষয়টি আদালতকে উপস্থাপনের পরও জামিন পেলেন আসামি। এতে করে আমরা ক্ষুব্ধ।
এর আগে আসামি সুভায়ন খীসাকে দুপুরে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফরিদুল আলমের আদালতে জামিনের হাজির হলে বিচারক তাকে ৩ হাজার টাকা বন্ডে জামিন দেন। আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে ন্যায় বিচার পাননি বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী নারী শিক্ষিকা মৌসুমি ত্রিপুরা।
গত ১৬ আগস্ট সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিদ্যালয় সম্পর্কিত কাজে গেলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) সুভায়ন খীসার মারধরের শিকার হোন মহালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমি ত্রিপুরা। ঘটনার দিন মামলা দায়ের করলে এরপর থেকে পলাতক ছিলেন সুভায়ন খীসা।
অবশ্য অভিযুক্ত সুভায়ন খীসা-কে ঘটনার পর থেকে বাঁচাতে টিও রবিউল ইসলামসহ অনেকে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ আছে। এমনকি শিক্ষক মৌসুমি ত্রিপুরার সাথে বৈঠক করে ঘটনাটি আপোষ মিমাংসা করতে কয়েকদফায় আলোচনা করেছেন টিও রবিউল ইসলাম। একপর্যায়ে আসামি সুভায়ন খীসাকে পুলিশি গ্রেপ্তার থেকে বাঁচাতে ছুটির ভূয়া আবেদন করিয়েছেন টিও রবিউল ইসলাম।
এটিও সুভায়ন খীসা আঞ্চলিক একটি সংগঠনের প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় এমনকি বেশ প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে পলাতক থেকে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী নারী শিক্ষিকার।
