ইয়াছিন রানা সোহেল ॥
রাঙামাটি শহরের একমাত্র লোকাল বাহন সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন করতে মোটা অংকের টাকা নেয়ার অভিযোগ করেছে এক চালক। সিএনজি অটোরিকশা চালক সমিতির কয়েকজন নেতা ও বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এই টাকা নেয়া হচ্ছে বলে লিখিত অভিযোগ করে জেলাপ্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট। সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. নজরুল ইসলামের নাম ব্যবহার করে এই অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে সমিতির কয়েকজন নেতা ও বিএরটিএ’র একজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়। রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম বন্ধ করে দিতেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ পেয়ে বিএরটিএ ও সমিতির নেতৃবৃন্দ অভিযোগকারী মো. নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করেন।
বিআরটিএ কর্মকর্তা ও সমিতির নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে অভিযোগের কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লেন চালক মো. নজরুল ইসলাম। তিনি দেখা করেন সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে। সব শুনে তিনি বলেন, ‘তার নাম, মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে কে বা কারা এই কাজটি করেছেন। এর সাথে তার কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই।’ পরে কোতয়ালী থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরী করেন চালক নজরুল। এই বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হয় নজরুলের সাথে।
তিনি জানান, ‘অসুস্থতার কারণে কয়েকদিন হাসপাতালে কাটিয়েছি। ঠিকমত বাসা থেকে বেরও হই না। একদিন বিআরটিএ’র এক কর্মকর্তা ও সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক আমাকে মোবাইলে বলেন, রেজিস্ট্রেশনের নামে তারা টাকা নিচ্ছেন। আমি তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি। তাদের কথা শুনে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। আমি এ ধরনের কোন অভিযোগতো দুরের কথা। চিন্তাও করিনি। বুঝতে অসুবিধা হলো না-আমার নাম ব্যবহার করে কুচক্রিমহল এই কাজটি করেছে। সাথে সাথে থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরী করলাম।’ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগে আমার দুটো নাম্বার ব্যবহার করা হয়েছে। এই ধরনের হীন কাজে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ করছি।’
রাঙামাটি সিএনজি অটোরিকশা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু জানান, ‘চালক নজরুল ইসলাম সমিতির সদস্য। অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তাকে নিয়ে আমরা বসলাম। অভিযোগের কথা শুনে সে বিস্মিত হয়ে যায়। আমরাও বুঝে নিয়েছি কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল এই কাজটি করছে। তাদের ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।’ এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু।
