মেহেরাজ হোসেন সুজন, নানিয়ারচর ॥
পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের লাঙ্গল পাড়া এলাকায় আসমানের পানি যেন একমাত্র ভরসা সেখানকার কৃষকদের। পাহাড়ি জনপদের অধিকাংশ ধানের জমিতে পানি সেচের জন্য নদীর পানি বেশ দূরে হওয়ায়, ঝর্ণা বা ছড়ার পানির ওপর নির্ভর হতে হয় কৃষকদের। আবার কিছু কিছু জমিতে নদী ও ছড়া বহু দূরে হওয়ায় বিকল্পভাবে পানি সেচের ব্যবস্থা থাকে না, তাদের ভরসা থাকে একমাত্র বৃষ্টির পানি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, লাঙ্গল পাড়া এলাকার প্রায় ৫০ কানি জমিতে ধানের চাষ হচ্ছে কিন্তু সেখানে নেই কোনও পানি সেচের ব্যবস্থা। সেখানকার চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায় একমাত্র বৃষ্টি হচ্ছে তাদের পানি সেচের ভরসা তাই অন্য মৌসুমে ধানের চাষ না করে সেখানে কেবল বর্ষা মৌসুমে চাষ হয় ধান। এসব এলাকায় পানি সেচের যদি বিকল্প ব্যবস্থা করা হয় তবে সারা বছরই ধান চাষের উপযুক্ত হবে এই জমিগুলো।
কৃষক অমর জীবন চাকমা জানায়, জমিতে এবার বাসন্তী ধান লাগিয়েছি পানি আনার কোনো ব্যবস্থা নেই তাই যখন বৃষ্টি হয় সেই আশায় বসে থাকি, কর্তৃপক্ষ আমাদের পানির ব্যবস্থা করে দিলে আমরা খুব উপকৃত হবো ধান চাষের পরিমাণও বাড়বে।
কৃষাণী মিনতি চাকমা বলেন, বৃষ্টি আসলে ধান লাগাতে পারি, না হয় পারি না। পানির সমস্যায় আমাদের অন্য মৌসুমে চাষের সম্ভাবনা হয় না। যদি
বৃষ্টি না হয় আমাদের কপালে হাত দিতে হয়, আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি বৃষ্টি কখন হয়, অনেক কষ্ট করে দিনভর পরিশ্রম করে ধান লাগালেও সফল না হলে খুব কষ্ট হয়।
কৃষক বিমল কান্তি চাকমা বলেন, আমরা এই পাড়ায় প্রায় ২৫/৩০ জন কৃষক ধান চাষ করছি। ৫০ কানি জমিতে এবং পানি সেচের ব্যবস্থা না থাকায় আমরা আগ্রহ হারাচ্ছি বর্তমানে ধানের পাশে আগাছা পরিষ্কারের কাজ চলছে, পানি সেচের জন্য সরকারিভাবে যদি ব্যবস্থা নিত আমরা সবাই উপকৃত হতাম।
এবিষয়ে নানিয়ারচর উপজেলা সহ-কৃষি কর্মকর্তা মো. ইসহাক উদ্দিন জানায়, উপজেলার লাঙ্গলপাড়া এবং জুরাছড়ির কিছু জমিতে পানি সেচের কোন ব্যবস্থা নেই তাই জেলা পরিষদ বরাবর পানির ব্যবস্থার লক্ষ্যে আবেদন পাঠানো হয়েছে, এসকল জমিতে কেবল বর্ষা মৌসুমে ধান চাষ হয়, বাকি সময়গুলো খালি পড়ে থাকে। যদি সব মৌসুমে চাষের ব্যবস্থা করা যেত তাহলে চাষিরা উপকৃত হবে, অর্থনৈতিক অবস্থাও ভাল হবে।
নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা জানিয়েছেন, উপজেলার লাঙ্গলপাড়া থেকে শুরু করে জুরাছড়ি অনেকগুলো এলাকায় কেবল বর্ষা মৌসুমে ধান চাষ হয় । আবার অনেকগুলো এলাকায় পানি সেচের ব্যবস্থা না থাকায় বহু জমি সেখানে পরিত্যক্ত রয়েছে। যদি সেখানে পানির ব্যবস্থা করা যেত তাহলে সবাই উপকৃত হতো, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বরাদ্দ নেই তাই জেলা পরিষদ বা উন্নয়ন বোর্ড এই বিষয়ে নজর দিলে কৃষকদের উপকার হতো।
