পাহাড় লেকে ঘেরা রূপের রানী খ্যাত পর্যটন নগরী রাঙামাটির রূপ দর্শন করতে প্রতি বছর রাঙামাটিতে আসে হাজার হাজার পর্যটক। এই সকল পর্যটককে রাঙামাটির সুচারুরূপে দর্শন করাতে ইতিমধ্যে রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলোসহ রাঙামাটিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
রাঙামাটির প্রায় সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের এবং এই সব পর্যটন কেন্দ্র আসা সকল শরণার্থীরে খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলা বা যে কোন ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে আকর্ষণীয় ঝুড়ির। কিন্তু কর্তৃপক্ষগুলো চেষ্টায় ‘সেগুলো বালি’র মতো কর্ণপাত করতে দেখা যাচ্ছে না ব্যবহারকারীদের। কেন ব্যবহারকারীরা এতো অসচেতন, বোঝা দায়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পর্যটন নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে শহরের মানিকছড়ি থেকে শহরের যে কোন আবাসিক বাণিজ্যিক সরকারি বেসরকারি ভবনের সামনে ময়লা আবর্জনা ফেলা, নির্মাণ সামগ্রী রাখা, দোকানের সামনে রাস্তায় মালামাল রাখা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। নির্দেশ পালন না করলে মালামাল উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানা গেছে। নির্দেশ পালনে জেলা তথ্য অফিস শহরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে অবগত এবং উৎসাহিত করার জন্য মাইকিং করেছে।
২০১৭ সালের শেষ দিন ২০১৮ সালের প্রথমদিন থেকে সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পর্যটন নগরী তৈরিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, সদর উপজেলা প্রশাসন, রাঙামাটি পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলররা।
সকালে ডিসি বাংলো পার্কের সামনে এই অভিযানের সূচনা করেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোঃ মানজারুল মান্নান। এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুণ কান্তি চাকমা, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমনা আক্তার।
এরপর থেকে পৌর এলাকার নিজ নিজ ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে জনসাধারণকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান অবগত করতে পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের মাধ্যমে উৎসাহিত করতে দেখা যায়। তবলছড়িতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমনা আক্তারের নির্দেশে গাছের সাথে টাঙানো বিভিন্ন ব্যানার খুলে নিতে দেখা যায় পরিচ্ছন্নকর্মীদের।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান সম্পর্কে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ মানজারুল মান্নান দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামকে জানান, পরিবেশবান্ধব সুন্দর পর্যটন নগরী গড়তে রাঙামাটির সকল জনসাধারণের সহযোগিতা প্রয়োজন। সকলের সহযোগিতায় আমরা একটি সুন্দর নগরী গড়তে চাই। যার জন্য আমি আশা করবো ২০১৭ সালের শেষ দিন সকল আবর্জনাকে পরিষ্কার করে ২০১৮ সালের সুন্দর নগরী গড়তে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।

৪ Comments
ঠিক কাজ।অনেক অনেক ধন্যবাদ।
খুবই ভালো উদ্যেগ। তবে ভালো উদ্যেগগুলো বেশি দিন টিকে থাকে না। এর প্রথম দিকটি হলো মানুষের মাঝে অসচেতনার মনোভাব এবং অন্যটি প্রশাসনের সুষ্ঠ ব্যবস্থপনা। যেহেতু এদেশের অধিকাংশরা অসচেতন, তাদের মধ্য সচেতনতা তৈরি করতে দীর্ঘ সময়েরর প্রয়োজন। তাই প্রশাসনের উচিত হবে দীর্ঘ সময় মনিটরিং করা। যাতে করে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয় এবং মানুষের এই কাজটি কে নিজের দায়িত্ব মনে করে। যখন মানুষ কাজটি দায়িত্ব মনে করতে থাকবে, তখন আর ইচ্ছা করলেও কেউ ময়লা-আর্বজনা ফুটপাতে ফেলে রাখবে না। রাংগামাটি শহরের রাস্তার পাশে হাটার ফুটপাতগুলো জরাজীর্ণ। কত বছর আগে যে কাজ হয়েছিল, তা কেউ বলতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। ফুটপাতগুলো শুধুমাত্র পরিষ্কার করলেই হবে, প্রশাসনেরও এদিকে দৃষ্টি দেওয়ার দরকার। যখন কোন পর্যটক এ শহরে আসে, কোন না কোন সময় রাস্তায় বের হন, তখন এসব হাঁটার ফুটপাত দেখে, কল্পনাই করতে পারেন না তারা কোন পর্যটন এলাকায় ঘুরতে আসছে। কারণ পর্যটন শহর দেখতে হবে দৃষ্টিনন্দন, সেখানে যদি হয় সবকিছু জরাজীর্ণ তাহলে কেমন হবে আপনারাই ভালো জানেন। আবার আমাদের দেশে পর্যটন মমন্ত্রণালয় রয়েয়ে, উনারা কি এসব পর্যটক এলাকা গুলো নিয়ে গবেষণা করেন।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি নামফলক এভাবে প্রায় পরিত্যাক্ত।
এমন কোন মহৎ প্রানের কি জন্ম হবে, যে জন ৪৭ বছর আগের প্রানের রাঙামাট্যার অপরূপ সৌন্দর্য ফিরিয়ে দিতে পারবে?