নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই ॥
কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গা হেডম্যান পাড়া গ্রামের অংসালা মারমা, দুর্গম পাহাড়ি নিজ বাগান থেকে সজনে ডাটা সংগ্রহ করে সড়কের পাশে এনে বস্তা বোঝাই করছে। কোথায় নেওয়া হবে, জিজ্ঞাসা করতেই তিনি জানান, এসব সজনে ডাটার বস্তা পণ্যবাহী ট্রাকে চলে যাবে ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। একইভাবে কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গা ইউনিয়ন এলাকার তম্বপাড়া, সাফছড়িসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকার সজনে চাষী মিনিপ্রু মারমা, সুজন তঞ্চঙ্গ্যা, আপাই মারমাসহ বেশ কয়েকজন চাষী জানান, বর্তমানে তারা সজনে ডাটা সংগ্রহ, বস্তা বোঝাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছানো পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই সজনে ডাটা তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
কাপ্তাই-ঘাগড়া সড়কের বিভিন্ন এলাকায় চলতি পথে চোখে পড়বে পাহাড়ে উৎপাদিত এসব সজনে ডাটা কেজি হিসেবে আঁটি করে প্যাকেটজাত করছে চাষীরা। কয়েকজন সজনে চাষীর সাথে আলাপকালে তারা জানান, পাহাড়ের এই সজনে ডাটা স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও এর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে এটি সহজলভ্য নয়। তাই গ্রাম কিংবা মফস্বল থেকে শহরেই এই সজনে ডাটার চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে তারা জানান।
এছাড়া, সজনে ডাটার বিভিন্ন ঔষধি গুণাগুণ থাকার ফলে এটি মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশি উপকারি বলে জানা গেছে। তাছাড়া সজনে ডাটা হজমে, স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে বলে চিকিংসকগণ জানান।
সজনে চাষে সফলতা পাওয়া ওয়াগ্গা এলাকার চাষী অংসালা মারমা আরো জানান, বড় ধরণের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সজনে ডাটার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি এর বাজার দর ভাল থাকে। এই সজনে ডাটা বিক্রি করে তিনি এরআগেও ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। শুধু তিনি নয়, সজনে চাষের সাথে জড়িতরা ইতিমধ্যে এর ব্যাপক সুফল পাচ্ছে এবং অনেকেই লক্ষাধিক টাকা আয় করে স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে, উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাইসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সজনে গাছের সংখ্যা ও উৎপাদন। সজনে ডাটা প্রধানত দুই প্রজাতির। এরমধ্যে এক প্রজাতির সজনে বছরে একবার ফলন পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে আরো একটি প্রজাতির নাম বারোমাসি সজনে। বছরে তিন-চার বার ফলন পাওয়া যায়। সজনে গাছ যে কোনো পতিত জমিতে গাছের ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে রাখলেই সজনে গাছ জন্মায়। এই গাছের তেমন কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। অযতœ অবহেলায় প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে ওঠে গাছটি। তবে বর্তমান সময়ে বীজ সংগ্রহ করে চারা তৈরি করে জমিতে রোপণ করা হচ্ছে। বড় ও মাঝারি ধরনের একটি গাছে তিন থেকে চার মণ পর্যন্ত সজনে পাওয়া যায়। তাছাড়া আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলন হয়ে থাকে এই সজনে ডাটার। অপরদিকে সজনে ডাটা ও পাতা দুইটিই শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি পুষ্টি ও ঔষধি গুণাগুণের জন্য সবার কাছে জনপ্রিয়।
অন্যদিকে, কাপ্তাই উপজেলায় বর্তমানে আম, জাম, কাঁঠাল, লেবুসহ বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি সজনে ডাঁটা চাষ করে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা। তাই বিনা খরচে কিংবা কম পরিশ্রমে সর্বাধিক আয়ের জন্য সজনের চাষ দিনদিন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই এলাকায়।
