আরমান খান, লংগদু
পাহাড়ের উঁচু নিচু মেঠো পথ। কখনো মোটরসাইকেল থেকে নেমে পুরো পাহাড় হেটে পাড়ি দিতে হয়। আবার কোথাও নেই কোনো চলাচলের সামান্য সড়ক। এমন এক দূর্গম পাহাড়ী গ্রাম দাদীপাড়া। এই গ্রামের চারটি পাড়ায় শতাধিক পরিবারের বসবাস। এখানকার প্রান্তিক মানুষের সুপেয় পানির চরম সংকট। পাড়াবাসীর এমন কষ্টের কথা শুনে ছুটে এলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাইনুল আবেদীন।
বৃহস্পিতিবার (৩১ মার্চ) সকালে পাড়ায় এসে শুনলেন এবং দেখলেন মানুষের কষ্টের গল্পগাঁথা। পানির কষ্ট লাঘবে করণীয় সম্পর্কে স্থানীয়দের সাথে আলোচনা শেষে সমাধানের আশ্বাস দিলেন ইউএনও।
এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী ড. জিয়াউল ইসলাম মজুমদার বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তিন চার মাস পাহাড়ে পানির সংকট দেখা দেয়। এসময় পাহাড়ি ছড়া, কুয়া ও ঝিরিগুলো শুকিয়ে যায়। ফলে স্থানীয়দের খাবার পানি ও গৃহস্থলির প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পরে। তবে পাহাড় থেকে ছড়ার মাধ্যমে যে সামান্য পানি প্রবাহিত হয় সেই পানিকে জমিয়ে রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি কিছু গভীর নলকুপ স্থাপন করলে সুপেয় পানির সংকট দূর হবে।
তিনি আরো বলেন, শিঘ্রই পাহাড়ি ছড়ায় বাঁধ দিয়ে পানি সংরক্ষনের একটি প্রকল্প গ্রহন করা হবে। এছাড়াও জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে কিছু গভীর নলকুপের ব্যবস্থা করা হবে।
দূর্গমতাকে জয় করে ১৯৬২ সালে এই পাহাড়ে শিশুদের জন্য একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি এই বিদ্যালয়ের কাঁচা টিনের ঘর ভেঙ্গে পাকা ভবন তৈরী করে এলজিইডি অধিদপ্তর। নবনির্মিত স্কুল ভবনটি পরিদর্শন করেন ইউএনও মাইনুল আবেদীন, উপজেলা প্রকৌশলী ড. জিয়াউল ইসলাম মজুমদারসহ সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় ইউএনও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর নেন এবং শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের সাথে বৈঠক করেন। বিদ্যালয়ে একটি ওয়াশব্লক, সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা ও গভীর নলকুপ নির্মাণের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা। অতি শিঘ্রই এসব প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মানের ব্যবস্থা করা হবে বলেন ইউএনও মাইনুল আবেদীন।
দূর্গম এই পাহাড়ি গ্রামে প্রথম কোনো সরকারি বড় কর্মকর্তা পা রাখলেন। এমন খুশির সময়টিকে স্মরনীয় করে রাখতে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মানে প্রীতিভোজের আয়োজন করেন লংগদু সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা আদু। এর আগে ইউএনও ও অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে স্কুলের শিক্ষর্থীরা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাইনুল আবেদীন বলেন, ছবির মতো সুন্দর এক গ্রাম দাদীপাড়া। এখানে না এলে পাহাড়ের এমন সৌন্দর্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত হতাম। তবে দূর্গম এই পাহাড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। এখানকার অধিবাসীরা কষ্টকরে জীবন যাপন করে। তাদের কষ্ট লাঘবে সহযোগিতা করা হবে। বিশেষ করে সড়ক নির্মান, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুত ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা খুবই জরুরী। আমরা সংশ্লিষ্ট সকল অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।
দূর্গম দাদীপাড়ায় ইউএনও‘র সাথে আরো ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহাবুবে ইলাহী, সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ঠিকাদার বাবুল দাশ বাবু, উপসহকারি প্রকৌশলী সাইফুল আজিজ নাদিম, একাডেমিক সুপারভাইজার শওকত আকবর প্রমূখ।
