সুহৃদ সুপান্থ
সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ‘ঠিকঠাক’ ভূমিকা না রাখার দায়ে এবং নির্বাচনের মাঠে নিজের ভাতিজা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় নিজের দল থেকে ‘অব্যাহতি’ পাওয়া লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুর রহিম দলের শীর্ষ নেতাদের মনোযোগ আকর্ষন করে বলছেন-‘ আমি যতটুকু ভুল করেছি তারচে বেশি শাস্তিও পেয়েছি। আমি আমার ভুলের জন্য লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছি এবং নির্বাচনের আগেই আমার ভাতিজাকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছি,দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমে তাকে বিজয়ী করার জন্য সর্বতোভাবে কাজ করেছি এবং বিজয়ীও করেছি। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের পর আমার ভাতিজার ফেসবুক কর্মকান্ডের কারণে তার সাথে চিরস্থায়ী সম্পর্কচ্ছেদও করেছি। আর কি কি করতে হবে,তাও যদি দল বলে,আমি করতে রাজি। তবুও দলের সাথে থাকতে চাই। আমার বিশ্বাস আমার দল ও দলের নেতারা আমার পুরনো ত্যাগ,পরিশ্রম ও কষ্টকে বিবেচনায় নিয়ে আমার ব্যাপারে সদয় হবেন এবং অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার করে নিবেন।’
আব্দুর রহিম বলছেন-‘ আমি যা করেছি,সেটা ঠিক হয়নি। এমন কাজ ভবিষ্যতেও আর কখনই করব না। তবুও আওয়ামীলীগের ও শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে দলের সাথে থাকতে চাই।’
দীপংকর তালুকদার এবং মুছা মাতব্বরসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তার বিষয়ে ‘সদয় বিবেচনা’করবেন বলে আশাবাদি রহিম।
রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য ও দীপংকর তালুকদারের বেশ আস্থাভাজন হিসেবে সুপরিচিত রহিম বলছেন-‘ আমি যা করিনি,তাও জেলার নেতাদের কাছে সত্যমিথ্যা বানিয়ে বলে আমার ভাবমূর্তি ও অবস্থান নষ্ট করেছে লংগদু আওয়ামীলীগের একজন নেতার নেতৃত্ব কতিপয় নেতাকর্মী। আমি দলকে ভালোবাসি,ভালোবাসি বলেই দলের সব সিদ্ধান্তই মেনে চলছি।’ তবে নিজের ‘ভুলের’ জন্য ‘অনুতপ্ত’ বলেও জানিয়েছেন লংগদুর রাজনীতিতে বেশ প্রভাবশালী এই নেতা,যিনি নিজের ভাতিজার ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ার মাশুল গুণছেন দলীয় পদ হারিয়ে ! শুধু ‘অব্যাহতি’ই নয়, তাকে সহ লংগদুর ৮ নেতাকে ‘স্থায়ী বহিষ্কার’ এর সুপারিশ সম্বলিত জেলা আওয়ামীলীগের চিঠি ইতোমধ্যেই চলে গেছে কেন্দ্রের কাছে। সুতরাং অনুতপ্ত হয়েও কতটা অনুকম্পা আদতে পাবেন রহিমরা, তার জন্য অপেক্ষাই করতে হবে আপাতত আরো বেশ কিছুদিন….
