শ্যামল রুদ্র, রামগড়
খাগড়াছড়ির রামগড় প্রধান ডাকঘর নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রয়োজনীয় জনবল ও আসবাব সামগ্রীর অভাব রয়েছে এখানে। ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ফাটল ও প্রতিনিয়ত পলেস্তরা খসে পড়ার পাশাপাশি ভেতরে বৃষ্টির পানি চুইয়ে ঢুকায় পুরো ভবনটিই এখন ঝুঁিকপূর্ণ। পোষ্ট মাস্টার সুমিত কান্তি শীল বলেন, বিপদের আশঙ্কার মধ্যেই এখানে দাপ্তরিক কাজকর্ম সারতে হচ্ছে। এ দুরাবস্থার চিত্র সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, দু’তলায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ায় নীচতলার একটি রুমে থাকেন পোষ্ট মাস্টার সুমিত কান্তি শীল। উপর তলায় ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। দরজা-জানালা সব ভাঙা। প্রযোজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে জেনারেটর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বসানো চিঠির বাক্স (লেটার বক্স) পুরোনো জীর্ণশীর্ণ হয়ে গেছে। নতুন চিঠির বাক্স স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, প্রচ- জনবল সঙ্কটে পড়েছে রামগড় প্রধান ডাকঘরটি। এর অধীনে রয়েছে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা, মানিকছড়ি, গুইমারা, লক্ষ্মীছড়ি ও রামগড় উপজেলা ডাকঘর এবং নাকাপা ও কলাবাড়ি শাখা কার্যালয় (সাবেক মহকুমা রামগড়)। এ ছাড়া ফটিকছড়ির বাগান বাজার, চিকনছড়া, নলুয়া চা বাগান শাখা কার্যালয় গুলোও রামগড় প্রধান ডাকঘরের নিয়ন্ত্রণাধীন। অথচ এখানে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর দক্ষ জনশক্তি নেই। যে কারণে এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সঠিক দেখভাল করা যাচ্ছে না।

হেডক্লার্ক সূর্য্য কান্তি দাশ জানান, সটিং অপারেটরের দুটি পদ শূন্য, দুই জন অফিস করণীকের একজনও নেই। শহর পরিদর্শকের একটি পদ খালি, সহকারী পরিদর্শকের দুটি পদই শূন্য এবং পোস্টম্যান নেই একজন। পোষ্টম্যান মো. দিদার হোসেন বলেন, একটি সাইকেল হলে চিঠিপত্র বিলি করতে সুবিধা হতো। এ রকম অবস্থায় ধুকে ধুকে চলছে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ডাকঘরের মালিকানাধীন ৫০ শতাংশ জমির পশ্চিমপাশের পুরো সীমানা প্রাচীর (১৫০শ ফুটের মতো) ধসে পড়ায় মেরামত করা হয়েছে। নতুন করে সামনের প্রাচীর (উত্তর পাশ) ধসে পড়েছে কিন্তু এটি মেরামতের কোন উদ্যোগ অদ্যাবধি নেওয়া হয়নি। ফলে নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় পড়েছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি। সহজেই ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে বাইরের যে কেউ। অপর দুই পাশের সীমানাপ্রাচীরও নড়বড়ে, ভেঙে পড়ার ঝুঁিকতে রয়েছে। সামনের কাউন্টারের কাঠের আসবাব সামগ্রী অনেক পুরোনো-নষ্ট হয়ে গেছে। নড়বড়ে কর্মচারী ক্লাবটি মেরামত জরুরি। বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে যায়।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে, উপ-পোস্ট মাস্টার জেনারেল (রাঙামাটি অঞ্চল) মোস্তফা কামাল জানান, দেশের সবকটি ডাকঘরই মারাত্মক লোকবলের সঙ্কটে ভুগছে, বলা যায় এ সমস্যা দেশব্যাপী। নতুন নিয়োগ কার্যক্রম ছাড়া সমাধান সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবন ও প্রাচীর মেরামতের বিষয়ে খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
