শ্যামল রুদ্র, রামগড় ॥
খাগড়াছড়ির রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সঙ্কটে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ছে। ২৭জন শিক্ষকের স্থলে আছেন মাত্র ১৫ জন। ১২জন শিক্ষকের পদ শূন্য। সাতশ শিক্ষার্থীর জন্য বাংলা ও ইংরেজি গুরুত্বপূর্ণ সর্বজনিন এই দুই বিষয়ে একজন করে মাত্র দুইজন শিক্ষক আছেন। অথচ শিক্ষকের পদ রয়েছে চারজন করে আটজনের। এখানে ছয়টি পদই শূন্য। সব বিভাগের জন্য বাধ্যতামূলক গণিত বিষয়ে একজন শিক্ষকও নেই। সরকারি বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নেই দীর্ঘদিন ধরে। চারুকলা, কৃষি বিজ্ঞান, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় শিক্ষকের পদ শূন্য পড়ে আছে। বিজ্ঞান বিভাগে শুধুমাত্র ভৌত বিজ্ঞানের ১ জন শিক্ষক আছেন। এ রকম পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার বিষয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন, তাদের যে, কি দুরবস্থা তা সহজেই অনুমেয়। অভিভাবকেরা সন্তানদের ভবিষ্যত পড়াশোনার চিন্তায় খুবই উদ্বিগ্ন। এমতাবস্থায়, অভিভাবকদের দাবি রামগড়ের এই বিদ্যালয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক পোস্টিং দেয়া হোক।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল কাদের জানান, মাউসি’র ডিজি মহোদয়কে শিক্ষক স্বল্পতার বিষয় জানিয়েছি। পুরো দেশব্যাপী সম্প্রতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বেশকিছু শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও সমতল জেলার তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে পড়া পাহাড়ের এই বিদ্যালয়টিতে একজন শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দ্রুততম সময়ে এখানে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া না হলে প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার মানোন্নয়ন করা কোন ভাবেই সম্ভব হবে না। অতিথি শিক্ষক দিয়ে কতটা শূন্যস্থান পূরণ করা যায়? তিনি আরও জানান, রংপুর বিভাগে শূন্য পদের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক দেওয়া হয়েছে। ওই অতিরিক্ত শিক্ষকদের এখানে পোস্টিং দেওয়া সম্ভব।
বাংলা বিভাগের একমাত্র শিক্ষক মো. হারুনুর রশীদ জানান, চারজন শিক্ষকের স্থলে একমাত্র শিক্ষক হিসাবে তাঁকে খুবই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই বেকায়দায় পড়বেন। পড়াশোনায় ভীষণভাবে ব্যাঘাত ঘটবে। শ্রেণি ব্যবস্থাপনায় চরম সঙ্কট দেখা দিবে।
অভিভাবক বেলাল হোসাইন উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, সন্তানদের লেখাপড়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে এই অঞ্চলে বসবাসরত প্রত্যেকেই চিন্তিত। পাহাড়ের গরীব এলাকা হওয়ায় আর্থিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠী বাইরে নিয়ে তাঁদের সন্তানদের উপযুক্ত শিক্ষা নিশ্চিত করা অনেকটাই কষ্টসাধ্য।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল কাদের প্রসঙ্গক্রমে বলেন, বিদ্যালয়ের পুরো এলাকায় সীমানা প্রাচীর নেই। ফলে বাইরের লোকজন সহজেই স্কুল কম্পাউন্ডে ঢুকে পড়ছে। আশপাশের লোকজন ময়লা-আবর্জনা ফেলে প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ নোংরা করছে। স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও এই অপতৎপরতা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এখানে মাদকাসক্তদের আনাগোনার খবরও এই প্রতিনিধিকে জানান তিনি। প্রধান শিক্ষক ও অন্য শিক্ষকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নেই এখানে। বিদ্যালয়ে একটি শিক্ষার্থী মিলনায়তন দরকার।
রামগড় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বপ্রদীপ কুমার কারবারি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের পাশাপাশি স্থানীয় সাংসদের ডিও লেটার নিয়ে এখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক পোস্টিং পেতে প্রচেষ্টা চালাবেন। অন্যান্য বিষয়গুলোর খবর নিয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।
