মো. মহিউদ্দিন, বাঘাইছড়ি ॥
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় আটটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘিরে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে ইউনিয়নের রাস্তাঘাট অলিগলি।
প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। মিছিল-মিটিং, পথসভা, উঠান বৈঠকে গণসংযোগে পিছিয়ে নেই কেউও। ইউনিয়নের হাট-বাজার, চা স্টলে চলছে নির্বাচনি আলাপ-আলোচনা। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যরাও রাত-দিন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীরা অটোরিকশা, সিএনজি, রিকশায় মাইক বেঁধে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে।
উপজেলার আট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৯ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৬৫ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ১৬২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী প্রার্থীদের সঙ্গে মাঠে নেমেছেন স্বামী ও সন্তানরাও। তেমনি পুরুষ প্রার্থীদের পক্ষে স্ত্রী, সন্তানরাও বসে নেই।
ইমরান হোসেন নামে এক ভোটার জানান, ভোট আসলে প্রার্থীদের আনাগোনার কমতি থাকে না। ভোট শেষ হলেই তাদের দেখা পাওয়া যায় না। প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়ে সেই মোতাবেক কাজ করে না বরং নির্বাচনের পর সব ভুলে যায় প্রার্থীরা। বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ভোটার হাসিনা বেগম বলেন, অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচিত হন কিন্তু ইউনিয়নের দৃশ্যমান উন্নয়ন হয় না। এবার আমরা সঠিক মানুষকেই ভোট দেবো।
আমতলী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজিবুর রহমান (আনারস প্রতীক) বলেন, আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী জনগণ আমাকে চায়, আমতলী ইউনিয়নের মানুষ মামলায় জর্জরিত, আমি নির্বাচিত হলে মামলা মুক্ত রাখাই আমার মূল লক্ষ্য। আমতলী ইউনিয়ন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আল আমিন (ঘোড়া প্রতীক) বলেন, এলাকাবাসীর দোয়া ও ভালোবাসা পুঁজি করে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি, একটি সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যবস্থা গড়া আমার প্রধান লক্ষ্য। আমতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. রাসেল চৌধুরীকে একাধিক বার চেষ্টা করেও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী দিদারুল আলম জিমু বলেন, সব শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং আমি নির্বাচিত হলে আমার ওয়ার্ডের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে আদর্শ মডেল ওয়ার্ডে পরিণত করা হবে আমার মূল লক্ষ্য।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন হবে শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। জনগণ যাকে ভোট দেবে, তিনিই নির্বাচিত হবেন। এখানে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই।
বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন খান জানান, বাঘাইছড়িতে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য সব প্রস্তুতি রয়েছে এবং ভোট সুষ্ঠু করতে যা করতে হবে, তাই করা হবে।
বাঘাইছড়ি উপজেলায় আট ইউনিয়নের ৭৭টি কেন্দ্রে ১৯৬টি বুথে মোট ৬১ হাজার ৭ জন ভোট দেবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২৮ হাজার ৯৫০ জন এবং পুরুষ ভোটার ৩২ হাজার ৬৫ জন।
