সৈকত বাবু ॥
শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠ কেটে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর আপত্তির মুখে অবশেষে রাস্তা নির্মাণের কাজ স্থগিত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে মাঠ দখল করে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রবল আপত্তির মুখে কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানায়, গত ৩০ নভেম্বর সকালে মাঠের একপাশে রাস্তা নির্মাণের জন্য মাঠের একপাশ খুঁড়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ। মাঠের এক কোণায় রাস্তা জন্য মাটি খুঁড়তে থাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে সমাধানের জন্য বুধবার সকাল দশটায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আসেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হাজি মুছা মাতব্বর ও পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী। নেতৃবৃন্দ আসার পর এলাকাবাসী ও বিদ্যালরে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা কাজ বন্ধ রাখার জন্য তাদের অনুরোধ জানান। এসময়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে স্থানীয় শতাধিক মানুষ। এ সময়ে স্থানীয়রা বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম মানিক ও নাসের তালুকদারের ওপরও চড়াও হন। প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকে রাস্তার জন্য খোঁড়া জায়গার ওপর শুয়ে পড়েন। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে অবশেষে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করেই মাঠটিকে নষ্ট করে দখল করতে চাচ্ছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী মাঠ রক্ষায় সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন সেখানে এ মাঠটি ধ্বংস করার কাজে লিপ্ত আছে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির কিছু সদস্যরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হাঁটার বিকল্প সুযোগ থাকার পরও ব্যক্তির আর্থিক ফায়দার জন্য এমনটি করা হচ্ছে বলে তারা নেতাদের কাছে অভিযোগ করেন।
নিরুপম ত্রিপুরা বলেন, অহেতুকভাবে এমন মাঠ নষ্ট করার চেষ্টা করছে কিছু সদস্য। নব্য আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয়ে এই কাজগুলো করা হচ্ছে আমরা কোনভাবেই এ মাঠ দখল বা নষ্ট করতে দিতে পারি না।
অজিত শীল বলেন, এ মাঠে তবলছড়ি এলাকার ছেলেরা খেলাধুলা করে থাকে এ মাঠটি নষ্ট হয়ে গেলে ছেলেরা খেলার কোনও জায়গা পাবে না।
পৌর কাউন্সিলর পুলক দে বলেন, এটি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, মাঠ নষ্ট করে হাঁটার রাস্তা তৈরি করা অযৌক্তিক। হাঁটার বিকল্প জায়গা থাকার পরও কেন মাঠ নষ্ট করে এমন কাজ করা হচ্ছে, তা বোধধগম্য নয়।
পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী স্থানীয়দের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, স্থানীয়রা না চাইলে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমস্যা না হলে মাঠ নষ্ট করে এমন রাস্তা করার কোন প্রয়োজন নাই।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর বলেন, উভয়ের জন্য যেমনটি ভালো হয়, তেমনটিই হবে। ইঞ্জিনিয়ার এসে দেখার পর যেভাবে পরামর্শ দিবে সেভাবেই কাজ হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে ওয়াল নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দিলে দেয়াল নির্মাণ থেকে সরে আসে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে শহরে আলফেসানী বিদ্যালয়ের মাঠ নষ্ট করে ভবন নির্মাণ ও শহীদ আব্দুল আলী একাডেমির মাঠ নষ্ট করে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে।
