আরমান খান, লংগদু
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেছেন, ‘লংগদু উপজেলার সঙ্গে, এই তিনটিলা এলাকার সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে। উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই আমার কাছে আবদার ছিলো তিনটিলা বনবিহার ও প্রশান্তি অরন্য কুটির বিহারের জন্য কিছু করতে হবে। তাই এ অর্থবছরেই এ দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ষাট লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছি। পাশাপাশি এ উপজেলার অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য নয়, এই লংগদু এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এত সব কাজের প্রয়োজন বোধ করছি এ কারণে যে আমাদের মানুষের জীবন অত্যন্ত স্বল্প, আমরা কদিন থাকবো, আমাদের কর্মগুলো যেন দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।’
মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তিনটিলা বনবিহারের ২৩তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নিখিল কুমার চাকমা আরও বলেন, ‘পরমপূজনীয় বনভান্তের হাতেগড়া তিনটিলা বনবিহারের মাধ্যমেই সারাদেশে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। কিন্তু এই বিহারেও এ অনুষ্ঠান নিয়মিত করা সম্ভব হয়নি। কিছু পরিস্থিতির কারণে এই অনুষ্ঠানের ধারবাহিকতা রক্ষা করা যায়নি। যেখানে বনভান্তে সাধনা করেছে এবং ধর্মের প্রচার করেছে সেই ঐতিহ্যবাহী বিহারের উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া দরকার। আমরা যখনই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবো আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে এ সকল প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন বেগবান করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাইনুল আবেদীন, বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য জয়সেন তঞ্চ্যঙ্গা, বিহার কমিটির সভাপতি রকি চাকমা প্রমুখ। শিক্ষক মান্টি চাকমা ও ইউপি সদস্য চম্পা চাকমার পরিচালনায় ২৩তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে ভিক্ষু সংঘের স্বধর্ম দেশনা প্রদান করেন ফুরোমন আন্তর্জাতিক বন ভাবনাকেন্দ্র রাঙামাটির অধ্যক্ষ ভৃগু মহাস্থবির, কাটাছড়ি বন ভাবনা কেন্দ্র রাঙামাটির অধ্যক্ষ ইন্দ্রগুপ্ত মহাস্থবির, রাজবন বিহারের ভিক্ষু পূর্ণজ্যোতি মহাস্থবির, আনন্দ মিত্র মহাস্থবির ও তিনটিলা বনবিহারের অধ্যক্ষ ধর্মালোক স্থবির।
এদিন সকাল থেকে পূণ্যার্থী ও দায়ক-দায়িকাদের পদচারনায় মুখর ভনভান্তের স্মৃতিধন্য ঐতিহ্যবাহী তিনটিলা বনবিহারে কঠিন চীবর দান, বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, কল্পতরু দানসহ নানা দানীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এসময় বিভিন্ন বিহার থেকে আগত বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘের অতিথিবৃন্দকে ফুল ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
