সুহৃদ সুপান্থ
‘রাঙামাটি বিএনপি তার ইতিহাসের সবচে কঠিন দু:সময় পাড় করছে। সারাদেশে বিএনপি সরকারি দলের নির্যাপন নিপিড়নে অসহায়,আর রাঙামাটিতে বিএনপি সরকারি দলের সাথে আঁতাত আর সমঝোতার মাধ্যমে নিজেরাই যে ‘আপোষ ও সমঝোতার’ রাজনীতি চর্চা করছে,তার কারণে রাঙামাটি বিএনপি এখন আওয়ামীলীগের ‘বি-টীম’ হয়ে গেছে। আমি এই অবস্থা থেকে শহীদ জিয়ার দল বিএনপিকে মুক্ত করতে চাই,বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে চাই। তাই এই অযোগ্য ব্যর্থ নেতৃত্বের হাত থেকে বিএনপিকে উদ্ধার করে সঠিক পথে আনতে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছি।’
১৩ নভেম্বর রাঙামাটি জেলা বিএনপির সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী,সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো এইসব কথা বলেছেন। রাঙামাটির রাজনীতিতে ‘আনপ্রেডিক্টেবল পলিটিশিয়ান’ হিসেবে পরিচিত ভূট্টো একাই পাল্টে দিয়েছেন জেলা সম্মেলনের পুরো হালহকিকত।
ভূট্টো দাবি করছেন-‘ রাঙামাটি জেলা বিএনপির নেতিবাচক কর্মকান্ড,আওয়ামীতোষণ,ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটের দাপট,নেতাকর্মীদের অবজ্ঞা অবহেলার কারণে দলকে দুর্বল করার বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছি আমি।’
সাইফুল ইসলাম ভূট্টো বলছেন-‘ এই কমিটি তার মেয়াদে একটা সাধারন সভা আয়োজন করতেও ব্যর্থ হয়েছে। ঠিকাদারি সিন্ডিকেট,আওয়ামীলীগের সাথে লিয়াজো রক্ষার রাজনীতি দিয়ে দল বা দেশের জন্য কিছু করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে দলীয় কার্যালয়ের চত্বরেই যারা বছরের পর বছর কর্মসূচী পালন করেছে,যারা একটি বড় মিছিল নিয়ে শহরে বের হওয়ার সাহস দেখাতে পারেনি দিনের পর দিন,তারা বিএনপির নেতৃত্বে থাকতে পারেনা। তাদের লজ্জা থাকলে নিজেরাই সড়ে যাওয়া উচিত।’
‘জেলা কমিটির কয়েকজন নেতা সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে চা-নাস্তা খাওয়া আর দিনের বেলায় আওয়ামীলীগের সাথে যোগসাজশে জেলা পরিষদ-উন্নয়ন বোর্ড আর এলজিইডিতে ঠিকাদারি কাজের ভাগাভাগি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন,দল নিয়া ভাবার সময় এদের নাই’ মন্তব্য করে সাইফুল ইসলাম ভূট্টো বলেন-‘ ২০১৫ সালে যাত্রা শুরুর পর এই কমিটি গত ৬ বছরে একটি সভাও করতে পারেনি!’
নিজেকে সভাপতি পদে কেনো যোগ্য মনে করেন, এই প্রশ্নের জবাবে ভূট্টো বলেন, যদি কাউন্সিলে ভোটাভুটি হয়,তবে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। কারণ আমাদের নেতাকর্মীরা জানে,আমি উড়ে এসে জুড়ে বসা দুধের মাছি নয়। সেই স্কুলজীবন থেকে ছাত্রদল হয়ে,যুবদল হয়ে,পৌর বিএনপি হয়ে বর্তমানে জেলা বিএনপির সহসভাপতি। আমি রাঙামাটি পৌরসভায় বিএনপির প্রথম মেয়র এবং আওয়ামীলীগের ভোটচুরির উৎসবের মধ্যেই জনগণের নির্বাচিত মেয়র হয়েছিলাম। শুধু রাজনীতিই নয়, রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারন সম্পাদক,রেডক্রিসেন্ট’র সহসভাপতি হয়ে এখন জেলা ফুটবল এসোসিয়েশসের সভাপতি। মেয়র থাকাকালিন রাঙামাটি পৌরসভায় আমার যে পরিকল্পিত উন্নয়ন তার সুফল এখনো পাচ্ছে রাঙামাটিবাসি। রাজনীতিতেও আমি কখনো হারিনি। এবারও হারব না ইনশাল্লাহ।’
সাইফুল ইসলাম ভূট্টো বলেন-‘৪৫ বছর বয়সে বর্তমান সভাপতি সেক্রেটারি হয়েছিলেন,৪৯ বছর বয়সে দলের সভাপতি হয়েছেন,তার এখন সরে যাওয়া উচিত,বিদায় নেয়া উচিত সসম্মানে। তিনি এবং তার ব্যবসায়ি সিন্ডিকেট এর হাত থেকে বিএনপিকে বাঁচাতে আমি সভাপতি প্রার্থী হয়েছি।’
সভাপতি পদে নিজেকে ‘যোগ্য’ দাবি করে সাইফুল ইসলাম ভূট্টো বলেন, জননেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং বেগম জিয়াকে মুক্ত করতেই বিএনপিকে শক্তিশালী সংগঠনের পরিণত করতে , আগামীদের আন্দোলন সংগ্রামকে বেগবান করতে হবে,আগামীতে নির্বাচনী পদ্ধতি ও রাজপথের লড়াইয়ে বিজয়ী হতে সভাপতি পদে আমি ভূট্টোকেই দরকার।’
জানা গেছে, ১৩ নভেম্বর রাঙামাটি বিএনপির কাউন্সিলের সভাপতি পদে বর্তমানের সভাপতি হাজী মোঃ শাহ আলমের সাথে লড়বেন সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো,সাধারন সম্পাদক পদে লড়ছেন বর্তমানের দীপন তালুকদার দীপুর সাথে যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে লড়ছেন জেলা যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল,সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ চৌধুরী এবং মোরশেদ আলম।
