শংকর হোড় ॥
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্রসহ নির্বাচনী এলাকাসমূহে অস্থায়ীভাবে সেনাক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেনে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি রাঙামাটিতে জেলা আওয়ামীলীগের এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে হত্যা, অপহরণ, হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে জেলা আওয়ামীলীগ।
লিখিত বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার বলেন, এখানকার কিছু সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ওপর প্রচ-ভাবে অত্যাচার চালিয়ে আসছে, তাদের অত্যাচার ও আক্রমণে আমাদের বহু নেতাকর্মী হতাহত হয়েছেন। নির্বাচন আসলে তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতা আরো বেড়ে যায়। যেমন চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নেথোয়াই মারমাকে গুলি করে হত্যা করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এভাবে তারা আমাদের নেতাকর্মীদের খুন ও জখম করে চলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে দীপংকর তালুকদার সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নির্বাচন আসলে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রধারীরা খুনের রাজনীতি শুরু করে। তারা বেছে বেছে আওয়ামীলীগের জনপ্রিয় নেতাদের খুন করছে। নির্বাচনের অংশ না নেয়ার জন্য হুমকি দেয়। তারপরও কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে হত্যা কিংবা অপহরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। ইতোমধ্যে হুমকির কারণে অনেক ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী দেয়া সম্ভব হয়নি। আমরা প্রতিবারই এসব অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে বলে আসছি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বিগত দু-এক বছর তাদের অপতৎপরতা অনেকটা সংকুচিত হলেও এখনো তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, তারা(জনসংহতি সমিতি) শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের জন্য দাবি জানাচ্ছে, যে দলের সাথে তারা শান্তিচুক্তি করেছে, সে দলের নেতাকর্মীরাও চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। আবার তাদেরকেই টার্গেট করে হত্যা, অপহরণ করছে। এতে বোঝা যায়, আসলেই তারা চুক্তি বাস্তবায়ন চায় কিনা।
সম্প্রতি মগ বাহিনীসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে পাঁচটি আঞ্চলিক দল সক্রিয় আছে জানিয়ে তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান দীপংকর তালুকদার। তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্রধারীরা পাহাড়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। সাধারণ মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছে না। ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পার্বত্য জেলায় নির্বাচনকালীন সময়ে ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি কামনা করে আঞ্চলিক দলগুলির সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, একসময় আঞ্চলিক দলগুলির হুমকির কারণে জুরাছড়িতে পদত্যাগের হিড়িক পড়ে। যেসব নেতাকর্মী পদত্যাগের চিঠি দেয়, আমরা কারো পদত্যাগই গ্রহণ করিনি, সম্প্রতি সেসব নেতাকর্মী আবারো সক্রিয় হয়েছে। তারা দলীয় কর্মকান্ডে অংশ নিচ্ছে। আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের সংগঠন নয়; এটি গণতান্ত্রিক সংগঠন। তাই তো সাময়িক সময়ের জন্য সন্ত্রাসীদের হুমকিতে কিছু নেতাকর্মী দল থেকে দূরে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা সন্ত্রাসীদের পক্ষ নেয়নি। এজন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ দিতে হয়, কারণ তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘেœ চলাফেরা করতে পারতো না।
দীপংকর তালুকদার বলেন, আমাদের দাবি আমরা নির্বাচন কমিশনকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করবো। একইসাথে প্রশাসনসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে চিঠি দেয়া হবে। সকলের সর্বাত্মক চেষ্টায় সাধারণ মানুষ যাতে ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে চেষ্টাই চালিয়ে যাবে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।
সম্প্রতি কাপ্তাইয়ে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে ইউপি সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সজিবের মৃত্যুর বিষয়ে দীপংকর তালুকদার বরেন, দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব থেকে সজিবের ওপর হামলা করা হয়েছে। ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশে আঘাত করা হলেও খারাপ জায়গায় লাগার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক আলামত দেখে বোঝা যাচ্ছে হত্যার উদ্দেশে হামলা করা হয়নি। তারপরও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী এটি তদন্ত করছে। সংগঠনও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজি কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর, সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
