সুহৃদ সুপান্থ
জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু দিবসের আলোচনা সভায় বক্তাদের ‘জন্ম নিবন্ধন ও সংশোধন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে নানান বক্তব্যের পর বিষয়টি ‘দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ’ দিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
বুধবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু দিবস উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো: আল মামুন মিয়া। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘সবার জন্য প্রয়োজন জন্ম ও মৃত্যুর পরপরই নিবন্ধন’।
এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মামুন, রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র কালায়ন চাকমা, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার, জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তি, বিয়ের নিবন্ধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, ভোটার তালিকা তৈরি এবং জমি নিবন্ধনে জন্মসনদ ব্যবহার বাধ্যতমূলক করা হয়েছে।
সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে পৌরসভার কাউন্সিলর,শিক্ষক প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ সম্প্রতি রাঙামাটি পৌরসভা প্রদত্ত জন্ম নিবন্ধন সনদ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে নানান অভিযোগ ও বিড়ম্ভনার বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষত পৌর কাউন্সিলর ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা সোচ্চার ছিলেন এ বিষয়ে।
এরই প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালককে পৌর কাউন্সিলরদের সাথে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জন্ম নিবন্ধনের সংশোধন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতাগুলো নিরসনের নির্দেশ দেন।
সভায় অংশ নেয়া রাঙামাটি পৌরসভার সাত নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামালউদ্দিন বলেন, আমরা কাউন্সিলররা সভায় বিষয়টি তুলে ধরার পর জেলা প্রশাসক মহোদয় তার বক্তব্যে এর গুরুত্ব অনুধাবন করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করছি এর ফলে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতার অবসান ঘটবে। সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মহোদয়ও আমাদের জানিয়েছেন,শীঘ্রই তিনি আমাদের সাথে বসে বিষয়গুলোর সুরাহা করবেন।’
প্রসঙ্গত, গত কয়েকমাস ধরে রাঙামাটি পৌরসভাবাসি জন্মনিবন্ধন নিয়ে নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতায় ভুগছেন।
পৌরসভার পক্ষ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদান করে হলেও এর যেকোন সংশোধনের জন্য দায়িত্ব অর্পন করা হয় জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালককে। তার অনুমোদনের পরই পৌরসভা সংশোধন করতে পারে। কিন্তু সেখানে তদন্ত ও খতিয়ে দেখার দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতার কারণে বিপাকে পড়েন স্থানীয়রা। তারা এনিয়ে পৌরসভার উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। প্রায় এক থেকে দেড় হাজার সংশোধনের আবেদনের স্তুুপ জমে পৌরসভায়। কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতা ও বালাম না থাকার কারণে পৌরসভা সেইসব আবেদন সংশোধনের জন্য আর স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ করছে না। এনিয়ে টানাপোড়েনে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারন মানুষ। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম-এ সংবাদ প্রকাশিতও হয়েছে। মঙ্গলবার পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম-এ ‘ জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে অসহনীয় দুর্ভোগ’ শিরোনামে সংবাদ ছাপা হলে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে পত্রিকা সংশ্লিষ্টদের।
বুধবারের এই সভায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশের পর জন্ম নিবন্ধন সংশোধন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগিরা।
