কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ডংনালা পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রুহুল আমিন, সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জিএম রফিক আহমদ ও রাইখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল হাই মৃত হাতিটি উদ্ধার করে কাপ্তাই উপজেলা ভেটেনারি সার্জন ডা. তাহমিনা আরজুর মাধ্যমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে স্থানীয় ভাবে মাটি চাপা দিয়ে দাফন সম্পন্ন করেন।
জানা গেছে, উপজেলার রাইখালী ডংনালা লম্বাঘোনা এলাকায় বন্য হাতির কবল থেকে আমন ধান রক্ষায় স্থানীয় কৃষকেরা বিদ্যুতের তার দিয়ে ক্ষেতের চারিপাশে ঘেরা, বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে ও পটকা ফাটিয়ে পালাবদল করে পাহারার ব্যবস্থা করেন। গত শুক্রবার রাতের যে কোন একসময় বন্য হাতির দল ধান ক্ষেতে হানা দেয়ার চেষ্টা করলে বিদ্যুতের তারের সাথে জড়িয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সকালে খবর পেয়ে বনবিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একটি সূত্র জানায়, বন্য হাতিটি হিট ষ্ট্রোকে মারা যেতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। তবে কি কারনে মৃত্যু হয়েছে তা তদন্তের রির্পোট পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।
কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে আমন ক্ষেতে বন্য হাতির দল কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে কৃষকের ধান ক্ষেতে তান্ডব চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এতে আমনের শতশত একরের ফসল পায়ে পিষ্ট করে নষ্ট ও সাবার করে ফেলছে। বাঙ্গালহালিয়া বন ষ্টেশন কর্মকর্তা ফরেষ্টার কনক বড়–য়া জানান, পাহাড়ে খাদ্য সংকট ও আবস্থল ধ্বংসের কারনে বন্য হাতি বেপরোয়া হয়ে লোকালয়ে ছুঁটে আসছে। বন্য হাতি থেকে কৃষকের ফসল রক্ষায় বনবিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার পরও হাতির তান্ডব কমছে না। উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে কোদালা মহরঢর নামক খামার বাড়িতে বন্য হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে কৃষক মো. সোনা মিয়ার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মৃতহাতিটিকে গর্ত করে পুঁতে ফেলার জন্য বন বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে।
Previous Articleপাচারের সময় অবৈধ কাঠ জব্দ করলো সেনাবাহিনী
Next Article মাটিরাঙ্গায় বর্ণিল আয়োজনে শোভাযাত্রা
