জিয়াউল জিয়া ॥
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদুতে স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা। ৩০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির চিকিৎসকসহ মোট ১০১ টি পদের বিপরীতে লোকবল আছে মাত্র ৪৯ জন। এছাড়াও উপজেলার ২টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং সাতটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রেও নেই কোনো চিকিৎসক। বর্তমানে একজন ডেন্টাল দিয়েই চলছে উপজেলা চিকিৎসা সেবা। সাধারণ চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে।
লংগদু উপজেলার আয়তন ৩৮৯ বর্গ কিলোমিটার ও সবশেষে পরিসংখ্যানের গণনায় অনুযায়ী উপজলোর জনসংখ্যা ৮৪ হাজার ৪৭৭ জন মানুষের জন্য একটি মাত্র সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। উপজেলা সাধারণ মানুষ মাছ শিকার ও কৃষি কাজের উপর জীবিকা নির্বাহ করে। এই দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার সেবা গ্রহণের আর কোন মাধ্যম নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে কোন চিকিৎসক এখানে থাকতে চান না। যারাই নিয়োগ পান তারাই দ্রুতই বদলি হয়ে চলে যান। হাসপাতালের একটি মাত্র মাত্র অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটি প্রায় সময় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। জরুরি রোগী পরিবহনে নানান সমস্যায় পড়তে হয় এলাকাবাসীকে।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) এবং মেডিক্যাল অফিসারের ৯টি পদসহ সবই শূণ্য। এছাড়া আটটি সিনিয়র স্টাফ নার্স, দুটি মিডওয়াইফ (ধাত্রী), দুটি মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), সাতটি উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও দুটি স্বাস্থ্য পরিদর্শকের পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে চারটি সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, একটি ক্যাশিয়ার, একটি সহকারী নার্স, সাতটি স্বাস্থ্য সহকারী, একটি সহকারী বাগানমালী, তিনটি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারটের ও ১৪ টি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ শূণ্য আছে। হাসপাতালের একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স যা প্রায় সময় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে গ্যারেজে।
লংগদু হাসপাতালের ডেন্টাল চিকিৎসক নন্দিনী দাশ গুপ্ত বলেন, টিএস স্যার জরুরি কাজে বৃহস্পতিবার রাঙামাটি গিয়েছেন এবং আরও একজন আবাসিক চিকিৎসক ছিলেন তিনিও পারিবারিক কাছে বাড়িতে ছুটিতে গিয়েছেন। আমি এখন দায়িত্বে আছি। একজন ডেন্টাল হিসেবে চিকিৎসা সেবা দিতে সমস্যা হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জটিল রোগী আসলে সেই ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা তো হয়। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকদের সংকট বড় হয়ে দাড়িয়েছে। আমাদের স্যারও চিকিৎসক পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসক কম থাকায় আমাদেরও কাজের চাপ বেড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ চাকমা বলেন, বর্তমানে লংগদু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ প্রতিটি পদে জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বার বার ধরনা দেয়ার পরও কোনো কাজ হচ্ছে না। উপ-সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দিয়েই চলছে। তারা না পারলে তখন আমি দেখি।
তিনি আরও জানান, এমএলএসএস শূন্য পদগুলো জরুরিভাবে পূরণ হওয়া দরকার বিশেষ করে চিকিৎসক, নার্স, আয়া, ওয়ার্ড বয়ের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে জনবল খুব বেশি প্রয়োজন।
সিভিল সার্জন ডাঃ বিপাশ খীসা চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, জেলার লংগদু, বাঘাইছড়ি ও বরকল উপজেলায় এই সংকটা একটু বেশি। এই সংকট পূরণে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করছি, খব দ্রুতই একটা সমাধান হবে বলে আশা করছি।
