ইয়াছিন রানা সোহেল ॥
বৈশ্বিক মহামারি করোনা বিপর্যয়ের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার থেকে খুলছে পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। ফলে আবারো প্রানচঞ্চল হয়ে উঠবে স্পটগুলো। তবে মাস্ক পরিধান ছাড়া পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না। পর্যটকদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে-এমনটাই জানিয়েছেন পর্যটন স্পটগুলোর তত্ত্বাবধায়কগণ।
পর্যটন কেন্দ্র খোলার খবরে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন হোটেল মোটেল ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যেই হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন স্পটগুলোর সাথে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণও ফিরে এসেছেন কর্মস্থলে। পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত রাঙাামাটির হোটেল-মোটেল ও পর্যটন স্পটগুলো। পর্যটকদের আগমন ঘিরে নিরাপদ ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন পর্যটন ব্যবসা সংশ্লিষ্টরাও।
করোনার কারণে দীর্ঘদিন পর্যটক শূণ্য থাকায় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের। রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্সের হিসাব মতে, জেলায় পর্যটনের পাঁচটি খাতে দিনে গড়ে অন্তত সোয়া দুই কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা দেশের পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়ায় দীর্ঘদিনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
রাঙামাটিতে পর্যটন ঝুলন্ত ব্রিজ, পলওয়েল পার্ক, লাভ পয়েন্ট, শিশু পার্ক, হ্যাপি আইল্যান্ড, সুবলং ঝর্ণা, পেদা টিং টিং, ইকো ভিলেজ, বন বিহার, রাজবাড়ি, আরণ্যক, বড়গাঙসহ নানা বিনোদন স্পটগুলোতে সারা বছরই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে। কিন্তু করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল স্পটগুলো। তবে আজ থেকে আবারো প্রানচঞ্চল হয়ে উঠবে স্পটগুলো এমনটাই ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির নেতা মোঃ দিদার জানান, দীর্ঘদিন পর্যটন ব্যবসা বন্ধ ছিলো। আমাদের বোটের চালকরা এতদিন বেকার ছিলো। তবে তাদের নিয়মিত বেতন দিতে হয়েছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবে পর্যটন স্পট খুলে দেয়ার ফলে আমাদের শ্রমিকরা আবারো কাজের সুযোগ পাবে আর আমরা মালিকরাও ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে উঠতে পারবো।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ম্যানেজার সৃজন বিকাশ বড়–য়া জানান, সরকারি ঘোষণানুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স খুলার প্রস্তুতি নিয়েছি। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে পর্যটকদের সেবা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছি। দীর্ঘদিন পর কর্মচারীরা মনের খুশিতে কাজ করছে। আমরা আশাবাদী আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবো।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ১৯আগষ্ট জেলার পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়া হচ্ছে। পর্যটকরা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘুরতে যাবেন। এটা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পর্যটন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। আর পর্যটকদের নির্বিঘেœ রাঙামাটি ভ্রমণে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাঙামাটিতে পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ৩৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে ঝুলন্ত সেতুকে ঘিরেই। তাই পর্যটকেরা প্রথমেই ছুটে যান পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকায়। বছরে প্রায় দুই লাখ দেশি ও বিদেশি পর্যটক সেতুটি দেখতে আসেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের উপচে ভিড় থাকে। এছাড়া শহরের পুলিশ পরিচালিত ‘পলওয়েল পার্ক’, জেলাপ্রশাসন পরিচালিত ‘রাঙামাটি পার্ক’ সেনাবাহিনী পরিরচালিত ‘আরণ্যক ও হ্যাপি আইল্যান্ড’, সুবলং ঝর্ণা, সুখীনীলগঞ্জ ও রাজবন বিহার এলাকায় প্রতিনিয়ত ভিড় জমান বেড়াতে আসা পর্যটকরা। এছাড়া বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে আকর্ষণীয় ‘সাজেক ভ্যালি’ পর্যটকদের বেশি সমাগম হয়।
