তহিদুর রুবেল, পানছড়ি
অন্ততঃ তিন গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের একটি সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে থাকেন। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল যেন ওই এলাকার জনসাধারণের অখণ্ডনীয় নিয়তি। সেতু না হওয়ায়, বাজার হতে দূরত্ব কম হলেও ভারি পণ্য নিয়ে এই পথে চলাচল করতে পারেন না কেউই। এতক্ষণ বলছিলাম খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার দমদম বায়তুল হাকিম জামে মসজিদের অনতিদূরে খাল পারাপারে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা। যদিও স্থানীয় উদ্যোগ এবং অর্থায়নে কোন রকমে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে; কিন্তু তা জনদুর্ভোগের কমাতে পারেনি। পানছড়ি সদর বাজার-শনটিলা সড়কে, দমদম নেজাম উদ্দিনের ‘স’মিলের সামনের খালের ওপর, নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি স্থানীয় জনসাধারণের ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপারে একমাত্র অবলম্বন।
বাঁশের সাঁকোটি ব্যবহার করে টিএনটি, দমদম, হাছান নগর, অক্ষয় মেম্বার পাড়া, সুপারি বাগান, তাপিতা পাড়া, নাপিতা পাড়া, কলাবাগান গ্রামের মানুষ যাওয়া-আসা করে থাকে। প্রায় সব এলাকাই শস্যভাণ্ডার। সদরের সঙ্গে হাঁটা পথে দূরত্ব, মূল সড়ক পথ হতে কম হওয়ায়, অনেকেই এই পথটি ব্যবহার করে থাকেন। কায়িক শ্রম দিতে হয়। এই পথে যানবাহন চলাচল উপযোগী সংযোগ সড়ক নেই।। এখানে একটি সেতু হলে গরু বাজার, সদর বাজার, বিদ্যুৎ অফিস, সরকারি হাসপাতাল, থানা, পশু হাসপাতাল, বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াতের দূরত্ব যেমন কমবে, তেমনি সহজ পথ হওয়ায় যাতায়াত ব্যয়ও কমবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তারা জানান, পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা সড়ক হয়ে কলাবাগান দিয়ে, হাছান নগর এলাকায় চলাচলের সড়কটির বিজিবি মাঠের সামনের অংশে দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দভরা। ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পারাপার ও ভাঙাচোরা সড়কে যাতায়াতে প্রায়ই বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। একটি পাকা সেতু অথবা বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হলে তাঁদের দুর্ভোগ কমবে। ফলে ভুক্তভোগী জনসাধারণ এই বিকল্প সড়কটি দিয়ে যাতায়াতের মাধ্যমে কম সময়ে, কম খরচে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা সুবিধা নিতে পারবেন।
অনতিবিলম্বে একটি সেতু নির্মাণ করে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে মসজিদ পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. আবদুস শাকুর বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্টে আছি। কুয়াশায় বাঁশের সাঁকো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায়, গত শীতে আমরা শিশুদের আরবী শিক্ষার মক্তব বন্ধ করে দিয়েছি। এই বর্ষাতেও মুসল্লিসহ এই পথে যাতায়াতকারী মানুষজন নিরুপায় হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। বয়োবৃদ্ধদের জন্য চলাচল করা কঠিন। এখানে সেতু হলে, ভবিষ্যতে এই পথে কম খরচে কৃষিপণ্য বহন, ক্ষুদ্র যানবাহন চলাচল, বাজার-সদাই নিয়ে মানুষজন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারতো। যোগাযোগ ব্যবস্থা গতিশীল হতো। জনস্বার্থে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আমরা সদর ইউপি চেয়ারম্যানকে সাহেবকেও অনুরোধ জানিয়েছিলাম।”
এই বিষয়ে জানতে পানছড়ি উপজেলা সদর ৩ নং ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘এক বছর আগে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটা ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের প্রস্তাবিত দরপত্র হবে। ১নং সিরিয়ালে আছে কিন্তু কভিড-১৯ মহামারির কারণে দরপত্র হচ্ছে না।’
