অরণ্য ইমতিয়াজ
জুন মাসজুড়ে ১৯০ জন সংক্রমিত হওয়ার পর জুলাইয়ের শুরুতেই যেনো মরণব্যাধি করোনার পালে হাওয়া লেগেছে পাহাড়ে। জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে পঞ্চম দিন,পাঁচ দিনেই জেলায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে ৫ জুলাই ৩০ জুন,৪ জুলাই ২৫ জন, ৩ জুলাই ২৫ জন, ১ জুলাই ২৬ জন। জুলাই কোন টেস্ট না হওয়ায় ৪ দিনে মোট সংক্রমিত হয়েছেন ১০৬ জন !
চারদিনেই ১০৬ জন করোনা সংক্রমিত হওয়ার মধ্যে সর্বশেষ গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে ৩০ জন,যারা করোনাকাল শুরু হওয়ার পর জেলায় সর্বোচ্চ সংক্রমিত হওয়ার রেকর্ডও।
সোমবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুসারে জেলায় এই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮২৮ জন,যাদের মধ্যে মারা গেছেন ১৯ জন। পজিটিভ হওয়া ১৮২৮ জন পাওয়া গেছে মোট ১৩ হাজার ৩২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায়।
সংক্রমনের তীব্রতাকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে রাঙামাটির সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা: মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, ‘ আমাদের অসচেতনতার কারণেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টটি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে মনে হচ্ছে। এই ভ্যারিয়েন্টটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। সবার প্রতি স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ করছি।’
ডা: মোস্তফা জানিয়েছেন, ‘গত ২৪ ঘন্টায় ৩০ জনই রাঙামাটিতে একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমনের রেকর্ড এবং রাঙামাটিতে এখন সংক্রমনের হার প্রায় ৩০ শতাংশ।’
রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা: বিপাশ খীসা ‘হঠাৎ করেই ফের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া কোবিড এর নতুন রূপটিকে ‘বেশ আগ্রাসী’ মন্তব্য করে জানিয়েছেন, ‘ সারাদেশেই হঠাৎ করেই এই ভ্যারিয়েন্টটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে এবং এটির বিস্তার ক্ষমতাও বেশি। আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতিও রেখেছি। কিন্তু জনগণের টেস্ট করানোর অনাগ্রহ এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানাটাই আমাদের সবচে বড় চ্যালেঞ্জ। আমি সবার প্রতি অনুরোধ রাখব,সন্দেহ বোধ হলেই পরীক্ষা করান এবং আমাদের সহযোগিতা নিন। একই সাথে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে সবাইকে।’
এদিকে সিনোফার্মার টিকা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত আছে জানিয়ে সিভিল সার্জন বলছেন, যারা আগে সেরাম এর তৈরি কোভিশিল্ড’র প্রথম ডোজ নিয়ে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছেন,তাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে,কারণ তাদের বিষয়ে এখনো কোন নির্দেশনা আসেনি। তবে চীনের সিনোফার্মার টিকা এসেছে,যা আমরা আগে রেজিস্ট্রেশন করেছে কিন্তু কোন টিকাই পাননি,এমন ব্যক্তিদের দিচ্ছি। তাদের দেয়া শেষ করব আগে।’ নতুন করে টিকার রেজিস্ট্রেশন বন্ধ আছে বলেও জানিয়েছেন জেলার এই শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত,রাঙামাটি জেলায় এই যাবৎ করোনার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৩৩ হাজার ১৮৬ জন কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ নিতে পেরেছেন মাত্র ১৮ হাজার ৮৮১ জন।
রাঙামাটির ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা বরকল ও বাঘাইছড়ির সীমান্তের বিষয়ে সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, ‘রাঙামাটির সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলিতে কোভিড পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো এবং আমাদেরও বরকল ও বাঘাইছড়ি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ আছে। তবুও বিষয়টি সম্পর্কে আমরা সচেতন আছি।’
এদিকে রাঙামাটির প্রতিবেশি জেলা খাগড়াছড়িতেও করোনার বিস্তৃতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। রাঙামাটির চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা এই জেলার। এখানে গত ৫ দিনের সংক্রমিত হয়েছেন ১৭৩ জন এবং শনাক্তের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে এই পর্যন্ত ১ হাজার ৩৩৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত হয়েছেন ৩০ জন।
খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা: নুপুর কান্তি দাশ, খাগড়াছড়িবাসিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে সবাইকে মাস্ক পরিধাণ,শারীরিক দুরত্ব বজার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। করোনা সংক্রমন রুখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন জেলার এই শীর্ষ সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
