দীঘিনালা প্রতিনিধি ॥
মুজিববর্ষে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এবার প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছেন চার শতাধিক দরিদ্র পরিবার। ঘরের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যে দুই জায়গায় পাশাপাশি তোলা হয়েছে ১০২টি ঘর। এগুলো মেরুং ইউনিয়নের জুরজুরিপাড়া এলাকায় ৪২টি এবং বেতছড়ি পশ্চিম পাড়াতে ৬০টি। পাশাপাশি একসাথে লাল টিনের অনেকগুলো ঘর নির্মাণের ফলে দুর থেকেই দৃষ্টি কাড়ছে স্থানীয়দের। প্রতিদিন স্থানীয় লোকজনকে সেসব ঘর পর্যটকদের মতো ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ঘর ১লাখ ৭১হাজার টাকা নির্মান ব্যায় ধরে ১৬৭টি ঘর নির্মাণের জন্য ২কোটি ৮৫লাখ ৫৭হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিটি ঘর ১লাখ ৯০হাজার টাকা নির্মাণ ব্যয় ধরে ২৫০টি ঘরের জন্য ৪কোটি ৭৫লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। দুই দফায় ৪১৭টি ঘর নির্মানের বরাদ্দ পেলেও এর সাথে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি মোহাম্মদ কাশেম ব্যাক্তিগত টাকায় দরিদ্রদের জন্য ২টি ঘর নির্মানের খরচ বহন করছেন। সব মিলিয়ে ঘর হচ্ছে ৪১৯টি।
প্রথম পর্যায়ের ১৬৭টি ঘরের মধ্যে ৩০টি ঘর নির্মাণ কাজ শেষে দরিদ্র ৩০পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে ঘর পেয়েছেন বেতছড়ি বিভূতি রঞ্জন কার্বারি পাড়ার কালাবরন চাকমা (৪৬)। ঘর পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে ৪সন্তানের জনক কালাবরণ বলেন, ‘দিনমজুরি করে কষ্টে কোনমতে সংসার চলছিল। জীবনেও এরকম পাকা ঘর তুলতে পারতাম না। আমি মারা যাওয়ার পর আমার সন্তানরাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা ভুলবে না।’ বেলছড়ি এলাকায় ঘর পাওয়া আরেক দিনমজুর ৪সন্তানের জনক মো. জাফর (৪০) একই রকম অনুভূতি ব্যক্ত করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে তালিকা চূড়ান্ত করতে স্বামী পরিত্যক্তা, বয়স্ক, অসহায় এবং দরিদ্রদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী কর্মকর্তা আরো জানান, ইতিমধ্যে ঘর নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও বাজারে টিনের যোগান কম থাকার কারণে ছাউনি শেষ করতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে খুব শীঘ্রই কাজ শেষ হয়ে যাবে। আর এ ঘরগুলো হস্তান্তরের পর উপজেলায় ভাঙ্গাঘর এবং ঝূঁকিপূর্ণ ঘরে থাকা দরিদ্র পরিবার আর তেমন একটা চোখে পড়বে না; এটাই দীঘিনালাবাসীর বড় প্রাপ্তি।
