নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙামাটি শহরে ফুফা কর্তৃক স্কুলপড়ুয়া কিশোরীকে ধর্ষন এবং পরবর্তী সালিশ প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকায় ‘সমঝোতা’র ঘটনার সাথে নিজেদের ‘সম্পৃক্ততা’ অস্বীকার করে একটি ‘স্পষ্টীকরণ’ বিবৃতি দিয়েছে প্রোগ্রেসিভ,যাদের অফিসে কথিত সেই সমঝোতা অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রোগ্রেসিভ এর নিজস্ব প্যাডে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমা,সিএইচটি উইমেন এক্টিভিস্ট ফোরামের সভাপতি নারীনেত্রী টুকু তালুকদার এবং উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ নিরূপা দেওয়ান এক যুক্ত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত ২৯ মার্চ ভুক্তভোগী পরিবার সহায়তার জন্য প্রোগ্রেসিভ অফিসে আসেন। পরিবারটির অভিযোগ শোনার পর আইনী সহায়তার জন্য ব্লাস্ট-রাঙামাটি অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেয়া হয় এবং অভিযোগকারিসহ ফোরামের দুইজন সদস্য ব্লাস্ট অফিসে যান। পরবর্তীতে উক্ত বিষয়টি ফলোআপ করতে গিয়ে জানা যায়, অভিযোগকারি এবং ভূক্তভোগির পরিবার আইন আদালতের আশ্রয় না নিয়ে পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
‘এই ব্যাপারে প্রোগ্রেসিভ ও সিএইচটি উইমেন এক্টিভিস্ট ফোরামের কোন সংশ্লিষ্ট নেই’ বলে দাবি করা হয় বিবৃতিতে।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ চাকরিস্থল চুয়াডাঙ্গা থেকে নিজ বাড়িতে আসার পর জুয়েল চাকমা নামের এক ব্যক্তি বাসায় তার স্ত্রী না থাকার সুবাদে বাসায় অবস্থান করা নিজেদের ভাতিজিকে ধর্ষন করেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই কিশোরী। এই ঘটনার পর রাঙামাটির প্রোগ্রেসিভ নামের একটি এনজিও অফিসে বসে কিশোরীকে মাসে ৬ হাজার টাকা করে মোট ৫ লক্ষ টানা দেয়ার শর্তে ধর্ষনের বিষয়টি ধাপাচাপা দেয়া হয়। অভিযোগকারি কিশোরীর মা, বৈঠকে উপস্থিত নারীনেত্রী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এই বিষয়টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়। অনেকেই নারীনেত্রী ও এনজিওর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরই প্রেক্ষিতে বিবৃতিতে দিয়ে নিজেদের সম্পৃক্ততা নিয়ে ‘স্পষ্টীকরণ বিবৃতি’ দিলো তিন নারী নেত্রী।
