নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক ও রাঙামাটির সাংসদ দীপংকর তালুকদার এমপি বলেছেন, ‘এইচ টি ইমাম শুধু প্রশাসক ছিলেন না; তিনি মানুষের সাথে মিশে গিয়ে দেশের জন্য কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক একজন মানুষ এবং তিনি দেশপ্রেমকে বুকে লালন করে স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন, কাজ করেছেন। দুঃখের বিষয় হলো পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো পাকিস্তানের ভূত রয়ে গেছে; তারা এখনো বলে পাকিস্তান আমলে ভালো ছিলাম। স্বাধীনতা সংগ্রামকে ‘গন্ডগোল’ বলে আখ্যা দেয়। এদের কাছ থেকে সতর্ক থাকতে হবে।’
সোমবার বিকেলে অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাক্তন জেলা প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন তৌফিক ইমামের (এইচ টি ইমাম) স্মরণে রাঙামাটিতে আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এদিন বিকেল চারটায় রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাট্রিজ মিলনায়তনে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।
বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক ও রাঙামাটির সাংসদ দীপংকর তালুকদার এমপির সভাপতিত্বে ও সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য সচিব সুনীল কান্তি দে এর সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় অতিথি ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রাক্তন সাংসদ ফিরোজা বেগম, রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ তুষার কান্তি বড়ুয়া, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য হাজী মো. কামাল উদ্দিন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য সৈকত রঞ্জন চৌধুরী ও প্রকাশ চাকমা।
সভায় মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, উনার মাঝে (এইচ টি ইমাম) সবচেয়ে বেশি ছিল দেশপ্রেম। এই দেশপ্রেমকে ধারন করে জাতির পিতার নির্দেশনা মেনে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে সব করেছেন এইচ টি ইমাম। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি; কিন্তু মুক্তি এখনো হয়নি। মুক্তির জন্য আমাদের সকলকে সোনার মানুষ হতে হবে।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাচাই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা পরীক্ষা দিবে না আমরা পরীক্ষা নিব।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, তিনি রাঙামাটি জেলাকে নিজের জেলা ভাবতেন। এমন একজন প্রজ্ঞাবান মানুষের বিদায় আমাদের জন্য অপূরনীয় ক্ষতি।
রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, তাঁর তিনটি অসাধারণ বই আছে; যা তিনি রচনা করেছেন। দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও অবদান মানুষ চিরকাল মনে রাখবে।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, তৎকালীন রাষ্ট্রের কর্মচারী হয়েও একজন মানুষ দেশের জন্য এতো বড় অবদান রাখতে পারে তা অকল্পনীয়। তিনি যা করেছেন তা সকল তরুন প্রজন্মের জন্য অনন্য উদাহরণ।
