লংগদু প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার রাঙামাটির লংগদুতে কাপ্তাই হ্রদ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত লাশের পরিচয় মিলেছে শুক্রবার। নিহত যুবকের নাম প্রসনজিৎ সূত্রধর (৩০)। সে টাঙ্গাইল জেলা সদরের ১৫ নং ওয়ার্ডের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা মঙ্গল সূত্রধরের ছেলে।
লংগদু থানা পুলিশ জানাচ্ছে, নিহত যুবকের প্যান্টের পকেটে পাওয়া মোবাইল ফোনের সিমের সূত্র ধরে লংগদু সরকারি মডেল কলেজের এক নারী প্রভাষকের সাথে যোগাযোগ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ওই নারী প্রভাষককে জিজ্ঞাসাবাদে নিহত যুবকের প্রকৃত পরিচয় বেরিয়ে আসে।’
পুলিশ আরো জানায়, নিহত যুবকের সাথে প্রভাষক নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। সেই সুবাদে নিহত প্রসনজিৎ সোমবার (১মার্চ) সকালে লংগদুতে আসে এবং নারী প্রভাষকের সাথে দেখা করেন। এরপর প্রসনজিৎকে মাইনীবাজারে পৌঁছে দিতে কলেজের এক কর্মচারীর সাহায্য নেন প্রভাষক। তিনজন মিলে সকাল সাড়ে দশটার দিকে কলেজ এলাকা থেকে পাঁয়ে হেটে মাইনী বাজরের উদেশ্যে যাত্রা করেন। যাবার পথে আর্মি জোনের টাইগার টিলা নামক স্থান থেকে বিদায় নেন প্রভাষক। এসময় দুজনের মধ্যে বাকবিত-তা হয় বলে জানায় পুলিশ। প্রভাষক ফিরে আসলেও থেকে যায় প্রসনজিৎ ও কলেজের কর্মচারী। ১৫-২০ মিনিট পর কলেজ কর্মচারী যুবক ফিরে আসেন কলেজে। এরপর প্রসনজিৎ মাইনীবাজারে পৌঁছেছে কিনা তা জানতে তার মোবাইলে কল দিলে বন্ধ বন ওই নারী প্রভাষক। এ ঘটনার তিনদিন পর প্রসনজিতের মৃতদেহ পাওয়া যায় টাইগার টিলার পাশে কাপ্তাই লেকে।
নিহত প্রসনজিৎ কি ভিন্ন ধর্মের নারীর সাথে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে। তবে নিহতের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বা ভিসেরা পরীক্ষার পরই হয়তো জানা যাবে এই মৃত্যুর আসল রহস্য, এমনটাই বলছে পুলিশ।
এ বিষয়ে লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল আমিন বলেন, নিহত প্রসনজিতের পরিচয় মিলেছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত নারী প্রভাষক ও কলেজের কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। নিহত প্রনেনজিতের স্বজনরা লাশ শনাক্ত করেছেন এবং হত্যার দায়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
Previous Articleকারাবন্দি ৭ ছাত্রনেতার মুক্তির দাবি ছাত্র ইউনিয়নের
Next Article লামায় সংঘর্ষে ১২ জন আহত
