সুহৃদ সুপান্থ
২০১৫ সালের তারিখে জনসংহতি সমিতি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা: গঙ্গামানিক চাকমাকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন রাঙামাটি জেলা যুবলীগ সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী। মেয়র নির্বাচিত হয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজও করেছেন,কিছু কাজ চলমান এবং কিছু কাজ অচিরেই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২১ সালে এসে আবারো তার উপর আস্থা রেখে তার হাতেই নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। টানা দ্বিতীয় দফা মেয়র নির্বাচিত হতে দিনমান পুরো পৌরশহর চষে বেড়াচ্ছেন আকবর।
তরুন এই নেতাকে ঘিরে নেতাকর্মী সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারন মানুষের আগ্রহও কম নয়। নিজ দলের বাইরের অনেকের কাছেও রয়েছে তার গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা।
২০১৫ সালে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেয়ার সময় নিজের সম্পর্কে যেসব তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিলেন আকবর,২০২১ সালে এসে সেই সব জায়গায় কতটুকু পরিবর্তন হয়েছে ? সেটিই জানার চেষ্টা করেছি আমরা।
২০১৫ সালে জমা দেয়া হলফ নামায় আকবর তার শিক্ষাগত যোগ্যতা জানিয়েছিলেন বিএ, ২০২১ সালে এসে তার সাথে যুক্তে হয়েছে এলএলবি। সেই সময় তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলার তথ্য জানিয়েছিলেন,৫ বছর পরে স্বাভাবিকভাবেই সেই মামলার সংখ্যা আর বাড়েনি। পাঁচবছর আগে নিজের ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় দেখিয়েছিলেন ২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা এবং পাঁচ বছর পর বর্তমানে সেই আয় ২২ হাজার টাকা কমে হয়েছে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
তবে পাঁচ বছর আগে যে আয়টি ছিলোনা,সেটি এবার যুক্ত হয়েছে। সেটি হলো পৌর মেয়র হিসেবে প্রাপ্ত সম্মানী,যার পরিমাণ বছরে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
২০১৫ সালের হলফনামায় অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তার কাছে নগদ ১ লক্ষ টাকা,ইসলামী ব্যাংকে একমাত্র ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ১ হাজার ৮৭৮ টাকা, ৫ তোলা স্বর্ণ, ১ টি মোবাইল এবং ১ টি খাট থাকার তথ্য জানিয়েছিলেন তিনি,যাহার মোট মূল্য ছিলো ১ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা।
কিন্তু ২০২১ সালের হলফনামার তথ্য বলছে, মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীর অবস্থার কিছুটা হলেও পরিবর্তন হয়েছে। নিজের নামে ৭৫ হাজার থাকার পাশাপাশি স্ত্রীর নামে ২৫ হাজার নগদ টাকা আছে। সেই সাথে ব্যাংক একাউন্টও একটির জায়গায় তিনটি হয়েছে। তবে তাতে টাকার অংক খুব বেশি নেই। অগ্রনী ব্যাংক বনরূপা শাখায় ৪৯ হাজার ৪২৫ টাকা,ইসলামী ব্যাংকের একাউন্টে ৬ হাজার ৩৫৫ টাকা,ওয়ান ব্যাংকের হিসাবে ১০ হাজার ৮৭৫ টাকা আছে।
পাঁচবছর আগের ৫ তোলা স্বর্ণ বেড়ে ২৫ তোলা হয়েছে। সেই সাথে স্বাভাবিকভাবে বাড়া অন্যান্য আসবাবপত্র ও মোবাইলের হিসাব যুক্ত হয়েছে।
তবে মেয়রের সবচে বেশি পরিবর্তন লক্ষ্যনীয় তার ব্যক্তিগত ভূসম্পত্তিতে। ২০১৫ সালের হিসাব বলছে,বরকল উপজেলার ছোটহরিণা বাজারে ১২ ফুট বাই ১৫ ফুটের (প্লট নং-১২১) একটি দোকানের খালি প্লট ছাড়া আর কোন জমি ছিলোনা তার নামে। কিন্তু ২০২১ সালের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ছোট হরিণা বাজারের সেই প্লটটির পাশাপাশি রাঙামাটি শহরের রাজবাড়ীতে ২ শতক জায়গা, আসামবস্তির ব্রাম্মনটিলায় ১৭৫০ বর্গফুটের জায়গা,শহরের শান্তিনগর এলাকায় .৪২ শতক জলেভাসা জমি, চট্টগ্রামের কুলগাঁও এলাকায় .৬৬ শতক জায়গার মালিক হয়েছেন মেয়র।
অর্থাৎ হলফনামার হিসেবে পাঁচ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীর আর্থিক অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন না হলেও, ভূ-সম্পত্তিতে কিছুটা হলেও সমৃদ্ধ হয়েছেন তিনি। নিজের নামে কোন ব্যাংক ব্যালেন্স,ডিপিএস বা ফিক্সড ডিপোজিট নেই তার। পেশা হিসেবে ব্যবসা ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকে দেখিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে মেয়র আকবরের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি ধানের শীষের প্রার্থী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক,সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে,শিক্ষাগত যোগ্যতায় মামুন এমএমএস এবং এলএলবি পাশ করেছেন। আইনের পেশাজীবি ও ঠিকাদারি ব্যবসায়ী মামুনের বাৎসরিক আয় ১৪ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা, ব্যাংক থেকে লভ্যাংশ ৫ লক্ষ টাকা,পেশা থেকে আয় ২ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে হাতে আছে ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা আছে ২৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা,ফিক্সড ডিপোজিট আছে ৩ টি,যথাক্রমে ৬০ লক্ষ টাকার,৫৭ লক্ষ টাকার এবং ১৫ লক্ষ টাকার। ডিপিএস আছে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার।
এছাড়া একটি মোটর সাইকেল, ১৬ ভরি স্বর্ণসহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্র আছে তার। মামুনের বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি মামলার তথ্যও পাওয়া যায়নি হলফনামায়।
তবে মজার ব্যাপার হলো,তার নিজের নামে কোন ভূসম্পত্তিই নাই ! ভূসম্পত্তিতে মেয়র আকবরের আগ্রহের বিপরীতে এই বিষয়ে পুরোই উল্টো মামুন। মামুনের ভূসম্পত্তিতে আগ্রহ নেই,তার আগ্রহ ব্যাংকে টাকা জমানোয় !
