নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
পাহাড়ের নারী উদ্যোক্তাদের আয়োজনে রাামাটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দিনব্যাপী পিঠা উৎসব। পৌষের সকালে শনিবার শহরের অনুভব ফুড কর্নারে আয়োজন করা হয় পাহাড়ের বাহারি পিঠার আয়োজন। পিঠা উৎসবে ঠাঁই পেয়েছে সাইন্ন্যা পিঠা, কলা পিঠা, বিনি চাউলের পিঠা, তালের পিঠা, চিতই পিঠাসহ নান্দনিক সব পিঠা।
পিঠা উৎসবের আয়োজক ও তরুণ নারী উদ্যোক্তা সুরাইয়া ইয়াসমিন রুমা জানিয়েছেন, সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় এ ধরণের আয়োজন খুব একটা হয়ে উঠে না। তাই আমরা পাহাড়ের তরুণ নারী উদ্যোক্তারা মিলে এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছি। পিঠা উৎসবে গ্রাম-বাংলার আবহমান সংস্কৃতি সংরক্ষণে প্রায় ২৫-৩০ রকমের পিঠা উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের আলাদা আনন্দ দিতে আমরা সাংস্কৃতিক সন্ধ্যারও আয়োজন করেছি।
উৎসবে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গহনাও বিক্রি করা হচ্ছে। ‘দ্য সাবাঙ্গী’ পৃষ্ঠপোষকতায় বক্স অব অর্নামেন্ট ও অনুভব এর আয়োজনে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে কয়েকশ দর্শনার্থী উৎসব উপভোগ করেন।
বিকেলে পিঠা উৎসবে যোগ দেন খাদ্য বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। এসময় তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে নারীরা কোনওভাবে পিছিয়ে নেই। করোনাকালে নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল বিভিন্ন পণ্য বিক্রির মাধ্যমে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। মেয়েদের অর্থনীতির স্বনির্ভরতা এখন মেয়েরাই তৈরি করে নিচ্ছে। তিনি নারীদের সৃজনশীল বিভিন্ন কর্মকান্ডে ভূয়সী প্রশংসা করে, নারী উদ্যোক্তাদের সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য জেলা পরিষদের আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, ‘দ্য সাবাঙ্গী’ হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নারী উদ্যোক্তাদের একটি গ্রুপ কিংবা মেলবন্ধনের প্লাটফর্ম। ‘বক্স অফ অর্নামেন্টস’ হলো এমনই একটি অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, যেটি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পোষাক বিক্রয় করে থাকে। মূলতঃ এই প্রতিষ্ঠানটি পাহাড়িদের যেসব ঐতিহ্যবাহী পোষাকের ব্যবহার দিনদিন কমে আসছে; সেগুলোকে সারাদেশের মানুষের মধ্যে বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংরক্ষণ করছে। অনুভব হচ্ছে নারী-শিশুদের নানান ধরণের পোষাক, লাইব্রেরি ও রেস্তেরাঁর এক যুথবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
