গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ সারাদেশে করোনাকালে মৃতের গোসল-কাফন দাফন ও সৎকারে স্বেচ্ছায় কাজ করে যাচ্ছে। পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ দাফন-সৎকারে নিঃস্বার্থ ও নিরলসভাবে কাজ করছে। পার্বত্য জেলা রাঙামাটির মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আওয়ামী লীগ নেতা নজির আহমেদ। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শে তাঁকে রাঙামাটি কলেজের নতুন ভবনের আইসোলসনে ভর্তি করানো হয়। গত সোমবার দুপুরে তিনি ইন্তেকাল করেন।
তিনটার দিকে রাঙামটি পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী মৃত নজির আহমেদের গাউছিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবক টিমকে গোসল-কাফনের জন্য বলেন। জেলা প্রশাসনের ডেপুটি নেজারত কালেক্টর (এনডিসি) আরিফুল ইসলামের মাধ্যমে আইসোলেসন থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়। গাউছিয়া কমিটি রাঙামাটি টিমের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা, হাফেজ শওকত, আরিফ উদ্দিন রিফ, ফাহিম বাবু, মাসুদ রানা রুবেল এবং পৌর কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বাবু। বিকেল চারটার দিকে আইসোলেসন সেন্টার থেকে তাঁরা নজির আহমেদের লাশ নিয়ে গাড়িতে তুলে৷ শহরের মসজিদ কলোনীস্থ বাস ভবনে তাঁর গোসল সম্পন্ন করে হাফেজ শওকত, মনজু, সিরাজুল মোস্তফা, আরিফ উদ্দিন রিফ ও ফাহিম বাবু। পরে তাঁরা কাফনও পরান। মঙ্গলবার দশটায় জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে তাঁর লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য নজির আহমেদ রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক কমিশনার ও রিজার্ভ বাজার জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি পার্বত্য জেলা রাঙামাটির অন্যতম সংগঠক ছিলেন এবং তিনি প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা। যিনি শহরবাসীর কাছে নজির চাচা নামেই পরিচিত। তাঁর বড় ছেলে শফিউল আজম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি এবং ছোট ছেলে শফিউল নেজাম রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক। নজির আহমদ একজন সজ্জন ও সমাজ দরদি ব্যক্তি ছিলেন।
