সাগর চক্রবর্তী কমল, মাটিরাঙ্গা ॥
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছিদ্দিকুর রহমানকে দাফন করতে না দেয়ার অভিযোগে তবলছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তবলছড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাশেম ভুইয়া ও তার দোসরদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষ্দ্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনরা। মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছিদ্দিকুর রহমানকে তার অছিয়ত মোতাবেক তবলছড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করতে না দেয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান।
বুধবার বেলা ১২টার দিকে মাটিরাঙ্গা সদরের বীর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। মাটিরাঙ্গা পৌর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমের সভাপতিত্ব মানববন্ধনে প্রধান অঅতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মো. রইচ উদ্দিন। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে মাটিরাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনছুর আলী, খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ হাওলাদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. খলিলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কাশেম, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সংসদ কমান্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ইমরান দ্রোহী ও খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো. হারুন মিয়া বক্তব্য রাখেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দেশের জন্য যুদ্ধ করলাম, নিজেদের জীবনবাজি রেখে দেশের জন্য পতাকা ছিনিয়ে আনলাম অথচ মৃত্যুর পরে দেশের মাটিতে দাফনের জন্য সাড়ে তিন হাত মাটি পাবো না তা মেনে নেয়া যায় না। তারা বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বাধার মুখে তবলছড়ির অদুরে আদর্শগ্রাম কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মানববন্ধন শেষে তবলছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তবলছড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাশেম ভুইয়াসহ তার দোসরদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) ভোরে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছিদ্দিকুর রহমান। মৃত্যুর পর তাকে তবলছড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করতে গেলে কবরস্থান কমিটির বাধার মুখে ঐ দিন বিকাল ৫টার সময় আদর্শগ্রাম কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এনিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনরা।
