বান্দরবানের লামা উপজেলায় বানোয়াট অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দিয়ে ছেলে ও পুত্রবধূকে হয়রানি করার অভিযোগ করেছে ছেলে ও পুত্রবধূ। বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌরসভা এলাকার শীলেরতুয়া গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন তার বাবা হারুনর রশিদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন। বানোয়াট অভিযোগে দায়ের করা মামলা থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী মনির হোসেন দম্পতি।
সূত্র জানায়, পৌরসভা এলাকার শীলেরতুয়া মার্মা পাড়া যাওয়ার রাস্তার ওপর পানি নিষ্কাশনের জন্য দুইটি কালভার্ট নির্মাণ করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি দোকান ঘর নির্মাণের মাধ্যমে ওই দুই কালভার্টের মধ্যে একটির মুখ বন্ধ করে দেন হারুনর রশিদ। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে চরম দুর্ভোগে পড়েন আশপাশের মানুষ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর হারুনর রশিদের ছেলে মনির হোসেনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়ার জন্য শ^শুর ও দেবরকে একাধিকবার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জের ধরে মারধর করেছে মর্মে বানোয়াট অভিযোগ তুলে গত ৫ অক্টোবর উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মনির হোসেন ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করেন বাবা হারুনর রশিদ।
এদিকে জনপ্রতিনিধি মঞ্জুর আলম জানান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শনে মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি তবে ঝগড়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় চাহ্লাপ্রæ মার্মা (৭০), রাজা মিয়া (৪৫) ও জামাল উদ্দিন (৩৮) বলেন, পানি চলাচলের মুখ বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে যখন হারুনর রশিদ ও তার পুত্র বধূ রোকেয়া বেগমের মধ্যে ঝগড়া হয় তখন আমরা উপস্থিত ছিলাম। ওই সময় কোন ধরণের মারামারির ঘটনা ঘটেনি। তবে ঝগড়া হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত হারুনর রশিদ বলেন, ছেলে ও পুত্র বধূ আমাকে গালমন্দ করার পাশাপাশি মারধর করেছে।
এ বিষয়ে লামা পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাবিল মিয়া বলেন, পানি চলাচলের মুখ বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে হারুনর রশিদের সঙ্গে তার ছেলে মনির হোসেন ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগমের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে বলে শুনেছি। ঘটনাটি সমাধান করার জন্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু হারুনর রশিদ একমত না হওয়ায় সমাধা করা যায়নি।
