রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে রাঙামাটিতে নির্মাণ কাজ চলা ফ্রেন্ডস ক্লাব কাম কমিউিনিটি সেন্টারের ভবনটি ২০/২৫ ফুট সরিয়ে আনার জন্য অনুরোধ করা হলেও জেলা পরিষদ সেই অনুরোধ শুনছে না বলে দাবি করেছেন ক্লাবটির সভাপতি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চিং কিউ রোয়াজা।
দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামকে চিংকিউ রোয়াজা বলেছেন, ক্লাবটির নতুন ভবন যেভাবে লেকের উপর নির্মিত হচ্ছে,বিষয়টি দেখতে আমার নিজেরও খারাপ লাগছে। আমিওতো রাঙামাটির সন্তান,এই শহরে বড় হয়েছি। আমাদের নিজস্ব জায়গা ফেলে কেনো লেকের উপর এভাবে নির্মিত হচ্ছে,আমি জানিনা। লক ডাউনের সময় দীর্ঘদিন আমি নিজেও ক্লাবে যাইনি,সেইসময় এই কাজ হয়েছে।’
চিংকিউ রোয়াজা বলেন-‘আমরা ক্লাবের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করেছি। তিনি আমাদের অনুরোধ জানিয়েছেন,লেকের উপর এভাবে ভবন নির্মাণ করার বিষয়টি ভালো দেখাচ্ছে না। তিনি এই বিষয়ে ক্লাবের সহযোগিতা কামনা করলে, আমরা তাকে কথা দিয়ে এসেছিলাম,বর্তমানে যেখানে ভবন নির্মিত হচ্ছে,সেখান থেকে আরো ২০/২৫ ফুট সরিয়ে আনব এবং সেই মোতাবেক আমরা জেলা পরিষদকে বিষয়টি অবহিতও করেছি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, জেলা পরিষদ আমাদের কথাই শুনছে না। তাদের ঠিকাদার নিজের ইচ্ছেমত যেখানে কাজ চলছিলো সেখানেই কাজ অব্যাহত রেখেছে। বিষয়টি দু:খজনক। এই কারণে আমরা জেলা প্রশাসককে দিয়ে আসা কথাও যেমন রাখতে পারছি না,তেমনি জেলা পরিষদ কথা না শোনায় আমরা বিব্রতবোধ করছি,অপমান লাগছে।’
‘বর্তমান স্থানে ভবন নির্মাণ কাজ হওয়ায় আমাদের সমালোচনা করছে সবাই,আমাদের মান সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। এটা তো জেলা পরিষদের বোঝা উচিত।’- বলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যান ও ফ্রেন্ডস ক্লাবের বর্তমান এই সভাপতি।
নির্মাণ কাজের ঠিকাদার এসএস কনস্ট্রাকশন এর সত্বাধিকারি জসিম উদ্দীন জানিয়েছেন, জেলা পরিষদ আমাকে যে জায়গা দেখিয়ে দিয়েছে আমি সেখানেই ভবন নির্মাণ কাজ করছি। তারা আমাকে আর কিছু বলেনি।’
চিংকিউ রোয়াজার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ফ্রেন্ডস ক্লাব ভবন নির্মাণ কাজের তদারকিতে থাকা সহকারি প্রকৌশলী এরশাদুল হক বলেন, ‘ওনারা (ফ্রেন্ডস ক্লাব) ভবনটি সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি কিছু বলেছেন কিনা আমি জানিনা। এইরকম কিছু হলে তো আমরা জানতে পারতাম। আমি কিছুই জানিনা।’
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়া বলেছেন, ‘এই প্রকল্পটি আমি দায়িত্ব নেয়ার আগের প্রকল্প। প্রকল্পটি যখন গ্রহণ করা হয় তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তবুও এই প্রকল্পটি নিয়ে যেহেতু কথা উঠেছে,আমি উর্ধতনদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছি। ফ্রেন্ডস ক্লাবের পক্ষ থেকে আমাকে কিছু বলা হয়নি। যদি ওনারা বলেন,তবে আমরা উনারা যে জায়গা দেখিয়ে দিবেন সেখানেই করব,আমাদের কোন সমস্যা নাই।’
ফ্রেন্ডস ক্লাবের সভাপতি, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য চিংকিউ রোয়াজার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ বলেছেন- ফ্রেন্ডস ক্লাব এর সভাপতি-সম্পাদকসহ দায়িত্বশীলরা এসেছিলেন,তারা নিজেরা কথা দিয়ে গেছেন হ্রদের বুক থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিবেন। এখন নিজেদের দেয়া কথা রক্ষার দায়িত্ব তো তাদেরই। কারণ এই হ্রদ সবার,রাঙামাটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হ্রদ।’
প্রসঙ্গত,রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি টেক্সটাইল মার্কেট এলাকায় অবস্থিত ফ্রেন্ডস ক্লাবের জন্য ভবন ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মিত হচ্ছে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে। সাত তলা ভবনের প্রতিটি ফ্লোর হচ্ছে সাড়ে চার হাজার বর্গফুট। সেই হিসেবে প্রায় সাড়ে একত্রিশ হাজার বর্গফুটের এই ক্লাব ভবন এর নির্মাণ কাজের প্রায় ২ কোটি টাকা ইতোমধ্যেই খরচ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।
