দিনমজুর বাবা ও দৈনিক দুইশত টাকা বেতনে মায়ের হোটেলের চাকরি, সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যদিয়ে বেড়ে ওঠা মেয়ে তানিয়া আক্তার এবার এসএসসিতে পেয়েছে জিপিএ৫। তাই খুশিতে আনন্দ অশ্রু শ্রমজীবি মায়ের চোখে, আর্থিক অনটনের মধ্যে কপালে চিন্তার ভাঁজ মেয়েকে কি পড়াতে পারবেন কলেজে।
রাঙামাটি শহীদ আব্দুল আলী একাডেমীর পিছনে মাসিক আড়াই হাজার টাকা দামের বাসায় ভাড়া থাকেন দিনমজুর আবুল মিয়া আর তার স্ত্রী খাবারের দোকানে কাজ করা চম্পা আক্তার। তাদের দুই মেয়ে সন্তান। প্রথম সন্তান বিয়ে দিয়েছেন। আর দ্বিতীয় সন্তান তানিয়া আক্তার এবার রাঙামাটির শহীদ আব্দুল আলী একাডেমী থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ৫ পেঁয়ে কৃতকার্য হয়েছে।
অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি পরীক্ষায়ও তানিয়া জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
উচ্চ শিক্ষা অর্জনের ইচ্ছা আছে বলে জানিয়েছে মেধাবি তানিয়া। তবে পরিবারের টানাপোড়েনে সামনের উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পথ কতটুকু সহায়ক হবে তার সে চিন্তায় তার মুখে আনন্দের সংবাদ প্রাপ্তির পরও তেমন একটা হাসি ফোটেনি। এখনো সে নিশ্চিত নয় উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ তার হবে কিনা।
তানিয়ার মা চম্পা জানান, উচ্চ শিক্ষার কত খরচ তা এখনো জানি না। এখনো চিন্তায় আছি মেয়েকে উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ করে দিতে পারবো নাকি সেটা নিয়ে। ভর্তির বই সব মিলিয়ে তো অনেক খরচ। তার বাবা দিনমজুর, আমি শহরের বনরুপায় হোটেল ভাতঘরে কাজ করি দৈনিক দুইশত টাকা বেতনে। মেয়েকে তেমন একটা ভালো খাবার দিতে পারিনি পরিবারের অভান অনটনের কারণে।
অপরদিকে এলাকাবাসীরাও খুশি তানিয়ার জিপিএ৫ প্রাপ্তির খবর শুনে। তারা জানান, অত্যন্ত পরিশ্রমী মেয়ে সে। পরিবারের অভাবকে পিছনে ফেলে সে সামনে এগিয়ে গেছে।
শহীদ আব্দুল আলী একাডেমীর প্রধান শিক্ষক, মো. নজরুল ইসলাম জানান, পরিবারের অভাবকে পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে এসেছে তানিয়া। সে অষ্টম শ্রেণীতেও জিপিএ৫ পেঁয়েছে আমাদের স্কুল থেকে। দ্ররিদ্রতাকে পিছনে ফেলে তার এগিয়ে যাওয়ায় আমরা খুব খুশি। সে সব সময় শ্রেণীতে প্রথম থাকতো। তার আচার ব্যবহারও খুব ভালো, আমরা আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলাম সে জিপিএ-৫ পাবে। আমরা তার জীবনের সাফল্য কামনা করি।
এদিকে তানিয়ার ফলাফলে উচ্ছসিত তার মা,যে হোটেলে চাকুরি করেন,সেই হোটেলের মালিক নাজিমউদ্দিন তানিয়ার সাফল্যের বিষয়টি তার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলে,তাৎক্ষনিক রাঙামাটির ব্যাচ-৯৪ এর বন্ধুরা এই মেয়েটির পড়াশুনার যাবতীয় খরচ বহন করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে ব্যাচ-৯৪ এর পক্ষ থেকে তানিয়ার মাকে জানালে,আবেগে অশ্রু সংবরণ করতে পারেনি কর্মজীবি এই নারী। তিনি ব্যাচ-৯৪ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান,তার সন্তানের পাশে দাঁড়ানোয়।
