যেকোনো দুর্যোগে রাঙামাটি পৌরসভা এগিয়ে আসে আর্ত মানবতার সেবায়। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। বর্তমান করোনা মহামারী ঝুঁকিতেও পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলর আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভুমিকাও বেশ লক্ষনীয় এবং তাদের এই কার্যক্রম প্রশংসা কুড়িয়েছে।

করোনা মহামারী ঝুঁকিতে সারাদেশ। সাধারন মানুষ প্রতিনিয়তই উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছে। এই সময়ে পৌরবাসীকে সুরক্ষা দিতে ও তাদের সহযোগিতায় কী উদ্যোগ নিয়েছে রাঙামাটি পৌরসভা ? এমন প্রশ্নের জবাবে পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী জানান, রাঙামাটির যেকোনো দুর্যোগে রাঙামাটি পৌরসভা সবসময় পৌরবাসীর পাশে থাকে এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।
সম্প্রতি করোনা মহামারীর কারণে সরকারের পক্ষ থেকে অসহায় লোকজনের পাশে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। সেই হিসেবে রাঙামাটি পৌরসভা সবসময় জনগনের পাশে থেকে তাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ২৬ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলে জানান পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী। একই সাথে লোক লজ্জার কারণে যে সমস্ত মধ্যবিত্ত পরিবার খাদ্য সহায়তা চাইতে পারেন না এমন লোকজনদেরও বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এ্ই পর্যন্ত প্রায় এক হাজার পাঁচশত মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝেও গোপনে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। 
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় এসব পরিবারের খোঁজ নিয়ে রাতের অন্ধকারেও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত-ভান্তেদের মাঝেও পৌরসভার পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বলে জানান পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী। এসব সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। শিশুদের জন্য শিশু খাদ্য হিসেবে ইতোমধ্যে প্রায় ছয় শতাধিক পরিবারের মাঝে শিশু খাদ্য পৌঁছে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দেয়া সহায়তায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিও বিতরণ করা হচ্ছে পৌরবাসীর মাঝে। তিনি জানান, রাঙামাটি পৌরসভার সকল কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন পৌরবাসীর সেবায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি জানান, শহরের নৃত্য শিল্পী, চারু শিল্পী, সঙ্গীত শিল্পী,বিভিন্ন পেশাজীবির লোকজনদের তালিকা করেও তাদের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে শহরের স্বেচ্ছাসেবিদের মাঝেও সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবিদের ওয়ার্ড ভিত্তিক তালিকা করে সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

লোকজনের মাঝে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি পৌরবাসীর সুরক্ষার জন্য ইতোমধ্যে পৌর এলাকায় ৩৫ টি হ্যান্ড স্যানিটাইজার বসানো হয়েছে এবং দশ হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। সচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার থেকে ২৬৬ টন খাদ্যশস্য পৌর এলাকায় বসবাসকারি ২৬ হাজার মানুষের মধ্যে বিলি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়র।
এসব কার্যক্রম চালাতে গিয়ে পৌরসভার দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী জানান, বৈশ্বিক এই মহামারীর দুর্ভোগে লোকজনদের সুরক্ষা ও সহায়তার পাশাপাশি রাঙামাটি পৌরসভার দৈনিক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রাঙামাটি শহরের প্রবেশ মূখ ও বিভিন্ন পয়েন্টে পৌরসভার উদ্যোগে জীবানুনাশক ছিটানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে স্প্রে করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিধনের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডটকম-কে আরো জানান, বুধবার রাঙামাটি জেলাপ্রশাসন কার্যালয়ে বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্ববসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, সকলেই সমন্বিতভাবে দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করবে। পাহাড়ধসের মত ঘটনার যাতে পূনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। শুধু তা-ই নয় রাঙামাটিবাসীর যেকোনো দুর্ভোগ দুর্যোগে রাঙামাটি পৌরসভা সবসময় পাশে থাকবেন বলে জানান পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী।
