করোনার প্রভাবে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে যখন সারাবিশ্বের এবং বাংলাদেশের প্রায় সব কারখান ও উৎপাদন বন্ধ,এমনকি দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি গার্মেন্টস শিল্পও স্তব্দ,সেই সময় যেনো সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই নিজের কারখানার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন রাঙামাটির এক আওয়ামীলীগ নেতা। আব্দুল ওয়াদুদ নামের এই ব্যক্তি রাঙামাটি রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমান কমিটির প্রভাবশালী সদস্য। রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্সেরও ভাইস প্রেসিডেন্ট তিনি।
রাঙামাটি শহরের তবলছড়ির ওমদামিয়া পাহাড়, একটি আবাসিক এলাকা। এইখানেই পাহাড়ের ঢালে নির্মিত নিজের ছয়তলা ভবনে সপরিবারে বসবাস করার পাশাপাশি নিজের আসবাবপত্র কারখানা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছেন তিনি। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি চলে তার আসবাবপত্র কারখানার কার্যক্রম। মেশিনের ভারি শব্দে ওই এলাকার মানুষের জীবন নাভিশ্বাস হয়ে উঠলেও তার ক্ষমতা ও দাপটের কাছে অসহায় মানুষ। আব্দুল ওয়াদুদ আওয়ামীলীগের নেতা,আবার তার ছোটভাই আব্দুল মামুন জেলা যুবদলের সহসভাপতি, ফলে তাদের পারিবারিক প্রভাবের কারণে ভয়ে মুখ খোলেনা স্থানীয়রা।
আবাসিক এলাকায় তাদের এই কারখানার কারণে বিরক্ত ও বিপন্ন ওমদামিয়া পাহাড়,এডিসি হিল এবং সবুজসংঘ মাঠের পাশে বসবাসকারিরা। সারাবছরই শীত গ্রীষ্ম সবসময় তার কারখানার মেশিনের শব্দে এলাকাবাসির জীবন দু:সহ হয়ে থাকে। এখন করোনার মধ্যেও কারখানা বন্ধ না করা এবং সেখানে শ্রমিকদের আনাগোণায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি।
ওই এলাকার বাসিন্দা রফিক স্মৃতি ক্লাবের সহসভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সাইফুল আলম রাশেদ বলেন, ওনি যে কাজ করছেন এটা একজন বিবেকবান মানুষের কাজ নয়। একেতো আবাসিক এলাকায় কারখানা পরিচালনা করা অবৈধ,তার উপর এখন করোনার সময়ও কারখানা চালানো না অনৈতিক কাজ। শুধু তাই নয়,তার ভবনের সকল ময়লা আবর্জনা তিনি সবুজ সংঘ মাঠে ফেলেন। এলাকার একমাত্র এই মাঠটি তার কারণেই নষ্ট হয় বারবার। আমরা বহুবার তার সাথে দেখা করে বিষয়টি বলেছি,কিন্তু তিনি কাউকে পাত্তা দেননা। নিজেকে অনেক বড় ক্ষমতাবান মনে করেন।’
এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বাবু বলেন, ‘ওই কারখানার শব্দে এলাকাবাসির সমস্যার কথাটি লোকজন বিভিন্ন সময় আমাকে বলেছে,এখন করোনার সময় কারখানা চালানো তো উচিত নয়। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করব। তারাই ব্যবস্থা নিবেন।’
এডিসি হিল এলাকার বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেছেন, আইনত আবাসিক এলাকায় কোন কারখানা করার সুযোগ নেই। তার উপর তার কারখানার শব্দে আশপাশের এলাকার মানুষের জীবন নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। এখন এই করোনার বিপন্ন সময়েও কারখানার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসি বুঝতে পারছে তিনি কেমন মানুষ। আমি স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি,অচিরেই আবাসিক এলাকা থেকে এই কারখানা সরিয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নিতে।’
তবে অভিযোগের জবাবে আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘কারাখানা বন্ধই আছে,তিনজন কর্মচারি আটকে গেছে,যেতে পারেনি,তাই তারা কিছু কাজ করছে।’ আর কারখানার কারণে এলাকার মানুষের সমস্যা হয়,এটাতো আমাকে কেউ কোনদিন বলেনি। আপনারা যেহেতু বলছে,ঠিকাছে আমি বিষয়টি দেখব।’
