মহামারী করোনার অজুহাতে রাঙামাটির স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। শহরের প্রায় সকল ডাক্তার তাদের চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছে এতে বিপাকে পড়েছেন শহরের চিকিৎসা প্রত্যাশীরা। অন্যদিকে ডাক্তারারা যেমন চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন তেমনই শহরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে রোগ নির্ণয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। জরুরী প্রয়োজনে যেমন কেউ ডাক্তার দেখাতে পারছে না তেমনই রোগের টেস্টও করা যাচ্ছে না। ডাক্তার চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ থাকায় হতাশা ও ক্ষোভ ব্যক্ত করেছে চিকিৎসা প্রত্যাশী অনেকে।
অবদুর রহমান নামে এক চিকিৎসা প্রত্যাশী বলেন, ডাক্তারা যদি চেম্বার না করে আমরা চিকিৎসা সেবা কোথায় পাব? আমার সমস্যার জন্য বিভিন্ন ফার্মেসীতে খোঁজ নিলাম কেউ চেম্বার করছে না।এটা দু:খজনক।’
সজিব নামে আরেকজন বলেন, স্বাস্থ্য নিরাপত্তার অজুহাতে ডাক্তাররা রোগী দেখছেন না। রোগীতো ডাক্তাররা ফ্রীতে দেখে না। তাদের যদি পিপিই না থাকে তাহলে নিজের টাকা দিয়ে পিপিই কিনে রোগী দেখলে সমস্যা কি? ধরে নিক যে পিপিই কিনার টাকাটা তারা ডাক্তারী ব্যবসায় ইনভেস্ট করেছে।’
অন্য দিকে শহরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে দেখা যায় প্রায় সব ডায়গোনেস্টিক সেন্টার বন্ধ, শুধুমাত্র লেক সাইট ডায়গোনেস্টিক সেন্টার ও শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার বিভিন্ন রোগের পরিক্ষা করছে। ডায়াগনেস্টিক মালিকদের দাবী তাদের যে স্টাফরা আছে কোন ধরনের ঝুঁকি নিয়ে চাকরী করতে রাজি নয় তাই বাধ্য হয়ে ডায়গোনেস্টিক সেন্টার বন্ধ রেখেছি।
লেক সাইট ডায়গোনেস্টিক সেন্টারের পরিচালক মো: রবিউল বলেন, আমরা এমন মহামারীর সময় চেষ্টা করছি রোগের টেস্ট কার্যক্রম চালাতে। রোগীদের কথা চিন্তা করে আমরা ল্যাব চালু রেখেছি।
চেম্বার বন্ধ রাখা নিয়ে রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা: বিপাশ খীসা বলেন, ডাক্তারদের চেম্বার করা বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু রাখতে বাধ্য করার মত কোন নির্দেশনা আমাদের কাছে নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও আহবান জানিয়েছেন মানবিক কারনে যাতে ডাক্তাররা চিকিৎসাসেবা দেয় আমিও তেমন আহবান জানাচ্ছি। সকলকে অনুরোধ করবো যারা মুলত চেম্বার করে সেসব ডাক্তার সকাল আটটা থেকে বারোটা পর্যন্ত আউটডোরে ডাক্তার দেখাতে পারবেন। সন্ধ্যায় ডাক্তারের চেম্বারের আশা না করে হাসপাতালে থেকে রোগীর পছন্দমত ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা সেবা নেবার আহবানও জানান তিনি।
মহামারী করোনার কারনে সরকার ২৬ মার্চ থেকে সকল সরকারি বেসরকারী অফিস ছুটি ঘোষনা করেছে যার পরেও দুই থেকে তিনদিন ডাক্তাররা চেম্বার করলেও তারপর থেকে চেম্বার করা বন্ধ রেখেছে ডাক্তাররা। এই মহামারীর সময়েও যাতে চিকিৎসা সেবা ব্যহত না হয় তার জন্য চেম্বার চালু করার দাবী করেছেন চিকিৎসা প্রত্যাশীরা।
