‘সুইডিশ’ নামেই পরিচিত, রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের (বিএসপিআই) অধ্যক্ষের অপসারণের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকে অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল মতিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষার্থীদের ওপর অনৈতিকভাবে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ব্যানারে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ইচ্ছামাফিক হোস্টেলের সিট বরাদ্দ, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজে অনিয়মসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ওপর নিজের প্রভাব খাটিয়ে ‘ইয়ার লস’ করিয়ে দেন। ‘তুচ্ছ বিষয়ে’ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সম্প্রতি বদলী করার অভিযোগও আনেন তারা।
মানববন্ধনে শাকিল আহম্মেদ নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করার হুমকি দেন অধ্যক্ষ। কী অপরাধে আমাকে ঢাকা পলিটেকনিকে বদলী করা হয়েছে তা আমি এখনো অবগত নয়। আমি এই অধ্যক্ষের অপসারণ চাই।’
ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পলিটেকনিক শিক্ষার্থী রিফাত, আবু বকর, লাভলু দাশসহ আরো অনেকেই। সমাবেশে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অধ্যক্ষকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন তারা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অংশটি ক্লাস বর্জন করলেও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের (বিএসপিআই) অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন হাওলাদার সকল অভিযোগের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে অকৃতকার্য করে দেওয়ার সুযোগ নেই। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারো ইন্ধনে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এসব করা হচ্ছে। পড়ালেখা না করলে ইয়ার লস হবেই। পরীক্ষার খাতায় নাম ঠিকানা লেখা থাকে না। এখানে কে কোন এলাকার তা জানার কোনো সুযোগ নেই। কাউকে বদলি করতে হলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড করে থাকে। এখানে আমাদের কিছুই করার থাকে না। আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে আমি নিজেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেব।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কাপ্তাই হ্রদের তীরে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের একটি পুরাতন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মধ্যে অন্যতম। ১৯৬০ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ও সুইডিশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে সুইডিশ-পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি নামে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। ১৯৭০ সালে সুইডিশ সরকারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নামকরণ করে। বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুইটি শিফটে ২১শ’ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে।
