পার্বত্য শহর রাঙামাটির আভ্যন্তরীন পরিবহনের একমাত্র বাহন অটোরিক্সা। পুরো শহরে যাত্রী পরিবহনের কাজে স্বাধীনতার পর থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই বাহনটি। নানা সময়ে উদ্যোগ নিয়েও চালু করা যায়নি বিকল্প কোন পরিবহন। তাই রাঙামাটিবাসির ভরসার একমাত্র প্রতীক হয়ে উঠা এই যানটিই এখন পার্বত্য এই শহরকে পরিণত করেছে ‘অটোরিক্সার শহর’এ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই শহরে আরো কিছু অটোরিক্সার অনুমোদন দেয়া হবে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রায় তিনশত গাড়ী কিনে নিয়ে আসে শহরে। এবং এইসব গাড়ী রেজিস্ট্রেশনের কথা বলে স্থানীয় প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে ৬০ হাজার টাকা করে চাঁদা সংগ্রহ করা হলে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। অভিযোগ উঠে বর্তমান কমিটির একাধিক নেতার বিরুদ্ধেই। এই ঘটনায় ক্ষুদ্ধ
জেলা প্রশাসক সরাসরি জানিয়ে দেন কোন ধরণের অটোরিক্সা নিবন্ধন এখনই আর দেবেন না তারা। প্রকৃত অটোরিক্সা চালকরাও ছোট্ট এই শহরে নতুন করে অটোরিক্সা রেজিস্ট্রেশনের বিরোধীতা শুরু করে।
তবুও অবৈধ বেশ কিছু অটোরিক্সা চলাচল শুরু করলে শহরে,ট্রাফিক পুলিশ প্রায় ত্রিশটি অটোরিক্সা আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবুও অবৈধ গাড়ীর পক্ষে তৎপরতা থেমে থাকেনি অটোরিক্সা চালক ও মালিক সমিতির। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি শহরের নতুন করে অটোরিক্সা রেজিস্ট্রেশন দেয়ার বিরোধীতাকারি চালকরা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান ও এক মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে। কিন্তু তাদের মানববন্ধনের খবর পেয়ে একই সময়ে বনরূপা চত্বরে গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের দাবিতে আরেকটি মানববন্ধন করে আরেকটি পক্ষ। তবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনটি পুলিশী বাধার মধ্যেও অনুষ্ঠিত হলেও একই কারণে বনরূপার মানববন্ধনটি করতে পারেনি সমিতির নেতাদের অনুসারিরা। দুইপক্ষ মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও পুলিশী তৎপরতার কারণে কোন সংঘাত সহিংসতার ছাড়াই শেষ হয়েছে কর্মসূচী।
রেজিস্ট্রেশনের বিরোধীতাকারিরা দাবি করেছেন,তাদের কর্মসূচীতে আসার পথে কর্মসূচীর মাইক খুলে নিয়েছে সমিতির নেতাদের অনুসারিরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও বিচার চেয়ে রাঙামাটির কোতয়ালি থানায় সাধারন ডায়রিুও করেছেন চালক নুরুল ইসলাম নজু।
সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অটোরিক্সা চলকরা শহরে অবৈধভাবে নাম্বারবিহীন অটোরিকশা বন্ধের দাবি জানিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করে। এসময় অটোরিক্সা চালক মো: ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ছোট্ট একটা শহরে প্রায় সাত শতধিক ইতোমধ্যে চলাচল করছে। এরই মধ্যে আরো প্রায় দুই শতাধিক নাম্বারবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামার কারণে পর্যটন শহরের পরিবেশ ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।’ অটোরিক্সা আরেক চালক মো. রতন মিয়া বলেন, সমিতির নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ টাকার বিনিময়ে নাম্বারবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে দিচ্ছে। পাশাপাশি বৈধ গাড়ির শ্রমিকদের আয় কমে গেছে।’
অন্যদিকে একই সময়ে বনরূপা এলাকায় নাম্বারবিহীন গাড়ির চালকরা আরেকটি মানববন্ধনে নাম্বারবিহীন গাড়ির চালক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা সমিতির সদস্য কিন্তু আমরা সিএনজি মালিকারের কাজে এক ধরনের জিম্মি হয় আছি। কারন তারা সিএনজি ভাড়ায় দেওয়ার সময় ১ থেকে দেড় লক্ষ টাকা জামানত নেয় এবং মাসিক ভাড়া ৮ থেকে ১০ হাজার করে টাকা চায়।
নাম্বারবিহীন গাড়ির আরেক চালক রনজিত চাকমা বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) এক সভায় নাম্বারবিহীন গাড়ির নাম্বার দেওয়ার সিন্ধান্ত হয়েছে বলে আমরা শুনেছি তার পর কেন তাদের আমাদের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচী। আমাদেরও তো পরিবার আছে। জেলা প্রশাসক নাম্বারবিহীন গাড়ির নাম্বার দেওয়ার ঘোষনাকে আমরা স্বাগত জানাই। দ্রুত নাম্বার দিয়ে দিলে এই সমস্যা সমাধান হবে বলে মনে করি।’
রাঙামাটি কোতয়ালী থানা, ওসি (তদন্ত), খান নুরুল ইসলাম বলেন, দুপক্ষই অনুমতি ছাড়া সমাবেশ করতে চেয়েছিলো। ফলে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রাক্ষার জন্য কাউকেই আমরা সমাবেশ করতে দেইনি। আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি, সমাবেশ করতে হলে আগে অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ব্যাতিত কোন সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। এবং তাও করতে দেইনি।’
