সকল প্রস্তুতি শেষ করার পরও হঠাৎ করে কেনইবা সম্মেলন স্থগিত হলো এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাঙামাটির আওয়ামীলীগের ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মনে। পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে দলীয় কার্যালয় সর্বত্রই এখন আলোচনার প্রধান ইস্যু সম্মেলন স্থগিত হওয়া। এর পেছনে নানান কারণ খুঁজছেন নেতাকর্মীরা। প্রার্থীদের সমর্থকরা দুষছেন একে অপরকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষন। সংবাদকর্মীরও গলদঘর্ম হয়ে জানার চেষ্টা করছেন নেপথ্যের কারণ বা রাজনীতি। প্রশ্নের জবাবে কৌশলী উত্তর দিচ্ছেন নেতারাও।
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সবার কাছে ‘দাদা’ হিসেবেই জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন, দীপংকর তালুকদার এমপি বলেন, মঙ্গলবার দুপুর বেলা কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব ফোন দিয়ে আপাতত সম্মেলন স্থগিতের কথা জানান। কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শেই আপাতত সম্মেলন স্থগিতের কথা জানান ওবায়দুল কাদের। তাৎক্ষণিকভাবেই বিকেলেই দলীয় কার্যালয়ে বিশেষ সভায় দীপংকর তালুকদার সম্মেলন স্থগিতের বিষয়টি অবগত করেন দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে এবং জানান কোনও বিশেষ কারণে নয়, কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনাতেই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে এবং ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পর আগামী জানুয়ারিতেই রাঙামাটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর জানান, রাঙামাটিতে কোনও সমস্যা কিংবা ঝামেলা না থাকার কারণে আপাতত রাঙামাটি সম্মেলন স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় নেতারা। যেখানে অন্তঃকোন্দল আছে বা ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে আপাতত সেসব জায়গায় সম্মেলন করার কথা জানান নেতারা। সম্মেলন স্থগিতের বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্মেলন হয়ে গেলেই ভালো হতো। জরুরি ছিল সম্মেলনটার। তবে তিনি জানান, জানুয়ারিতেই রাঙামাটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদের আরেক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজি কামাল উদ্দীন সম্মেলন স্থগিতের বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, যেহেতু কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের জেলা সভাপতিকে সম্মেলন স্থগিতের বিষয়টি জানিয়েছেন, সেখানে আমাদের কারো কিছু করার নেই। সম্মেলন স্থগিতের বিষয়টি ‘ষড়যন্ত্র’ মনে করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, কেউ কেউ বিষয়টিকে এভাবে দেখলেও আমি আপাতত এই বিষয় নিয়ে তেমন কিছু বলতে চাই না। তবে তাঁর শুভাকাক্সক্ষী ও কাউন্সিলরদের তিনি ধৈর্য ও শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে আগামী জানুয়ারিতে সম্মেলনের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সম্মেলন স্থগিতের বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য আরেক সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর মতিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে নেতারা যাই বলুন না কেনো,তাদের উত্তরে সন্তুষ্ট নয় কর্মীরা। তাদের ভাবনায় ঠিকই ঘুরপাক খাচ্ছে নানান ইস্যু,হরেক কারণ। কে জানে কোনটা সত্যি,নেতাদের কথা নাকি এসব কর্মীদের সংশয় !
