দীর্ঘ চড়াই উতরাই পার হয়ে প্রায় ১৬ বছর পর অনানুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হয় রাঙামাটি পার্ক। সোমবার বিকালে আপাতত এক মাসের জন্য বিনামূল্যে পার্কে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে, রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান কাজী নজরুল ইমলাম, তৎকালীন পার্ক রক্ষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারীদের মধ্য দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পাদক ফজলে এলাহী, নগর সম্পাদক হেফাজত সবুজ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সৈকত বাবু । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক রাঙামাটি সম্পাদক আনোয়ার আল হক, ক্রীড়া সংগঠক নাছির উদ্দিন সোহেল, দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামের ডেস্ক ইনচার্জ শংকর হোড়, মিশু দে প্রমুখ।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, রাঙামাটিতে শিশুদের জন্য কোন পার্ক নেই, এটা দুঃখজনক ছিল, আজ সেই কষ্টের কিছুটা লাঘব হলো, অনানুষ্ঠানিকভাবে পার্কটি শিশুদের জন্য খুলে দেয়া হলো। কিছুদিনের মধ্যেই পার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত পার্কটি প্রতিদিন ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলে ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকবে। ইতিমধ্যে পার্কে বেশ কয়েকটি এনালগ রাইড যুক্ত করা হয়েছে, যার আর্থিক সহায়তা তিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে খুলে দেয়ার দ্বিতীয় দিনে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসকের বেঁধে দেয়া নিয়ম মানছে না এলাকার শিশুরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাশের এলাকা থাকা অনেক শিশুই তালা বদ্ধ গেইট বেয়ে ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন রাইড দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে স্প্রিংয়ের ওপর স্থাপন কারা ঘোড়াগুলোতে বসে তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দোলাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই এই রাইডগুলো নষ্ট হয়ে যাবে বলে জানান এলাকাবাসী।
রফিক নামে এক পথচারী বলেন, এতো সুন্দর রাইডগুলো বাচ্চারা এমনভাবে ব্যবহার করতে থাকলে তো এগুলো বেশি দিন টিকবে না। আর এসব শিশুর পিতা মাতা কারা, এরা এতো সকালে পার্ক আসলো কিভাবে? কোন শিক্ষিত পারিবারে বাচ্চা বলে তো মনে হচ্ছে না।
অপর দিকে বেলা দুইটা দিকেও দেখা গেছে, গেইটে তালা মারা থাকলেও পার্কের ভেতবে বেশ কিছু শিশু বিভিন্ন রাইড দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের পুরাটাই একেবারেই সাধারণ পরিবারের শিশু, এরা কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করে না।
খরব নিয়ে জানা গেছে পার্কে আসে পাশের এলাকা ও উন্নয়ন বোর্ডের নিচের বস্তি এলাকায় এ সব শিশুদের আবাসস্থল। পথচারীরা জানান, এসব শিশুদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পার্কের সৌন্দর্য ও রাইডগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পার্কআন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজ এর পরিচালক হেফাজত সবুজ বলেছেন, ‘ পার্কটি শিশুদের জন্যই,তবে সেটার দেখভাল ও যত্ন নিতে হবে এবং তারজন্য জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে আমাদের সবার। কারণ তাদের পক্ষে একা পার্কটি রক্ষনাবেক্ষন ও সার্বক্ষনিক খেয়াল রাখা সম্ভব নয়। এলাকাবাসিকে দায়িত্বশীল হতে হবে এ ব্যাপারে।’
