রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের দুর্গম আড়াছড়ি এলাকায় এক বিধবা নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃত নারী আড়াছড়ি এলাকার (৮নং ওয়ার্ড) তাইহ্লা পাড়ায় মৃত মংসুই প্রু মারমার স্ত্রী সুইক্রাচিং মারমা (৪২)। পুলিশের ধারণা, বিধবা নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তাকে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা আত্মহত্যার কথা বলে পুলিশকে জানান। লাশ উদ্ধারের পর লাশের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে আড়াছড়ি এলাকার ৮নং ওয়ার্ড) তাইহ্লা পাড়ার দীলিপ তঞ্চঙ্গ্যার পরিবার বিধবা নারী সুইক্রাচিং মারমাকে মারধর ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। এর পরদিন সোমবার সুইক্রাচিং মারমার বাড়ির পার্শ্বস্থ নদীর পাড়ে গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। এ ঘটনায় স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল দুর্গম হওয়ায় থানা পুলিশ মঙ্গলবার ভোরে গিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থল কাপ্তাই উপজেলাধীন চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরের দুর্গম এলাকায় হওয়ায় এলাকাবাসীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, সন্ত্রাসীদের চাপে হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রকাশ করছে স্থানীয় একটিপক্ষ। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দীলিপ তঞ্চঙ্গ্যা ও তার পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে।
চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান চিং থোয়াই মারমা জানান, রোববার রাত সাড়ে সাতটার দিকে ওই নারীকে মারধর ও মামলার ঘটনা ঘটে। তবে সোমবার স্থানীয়রা গাছে ঝুলে থাকা লাশের খবর আমাদের জানায়। মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ লাশ উদ্ধার। ঘটনাস্থল দুর্গম এলাকা হওয়ায় ঘটনার বিস্তারিত জানা যায়নি।
চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উদ্দিন জানান, ‘বাড়িতে হামলার পর গভীর রাতে নদীর ধারে ঝুলন্ত অবস্থায় আত্মহত্যা করেছে মর্মে খবর দিলেও, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই লাশটি নামিয়ে ফেলে স্থানীয়রা। প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, বিধবা নারীর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আত্মীয়-স্বজনের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’