পার্বত্য জেলা রাঙামাটি শহরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম বালিকা বিদ্যালয় নামে। বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করবে শুধু বালিকারা এমনটা স্বাভাবিক বিষয় হলেও এই বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে বালকরাও। তবে বিদ্যালয়ের এই নামকরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও। এ ব্যাপারে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কয়েকধাপে নাম সংশোধনের আবেদন করলেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন কিছুই অবগত করেনি।
সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি এডিসি কলোনী এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির নাম বালিকা বিদ্যালয় হলেও পড়ালেখা করছেন ছেলে-মেয়ে উভয়েই। বিদ্যালয়টি ব্রিটিশ সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ৮১ বছরেও নাম বিদ্যালয়ের নাম সংশোধন করা হয়নি। তবে বালিকাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে প্রতিষ্ঠার কত বছর পর থেকে বালকরাও পড়ালেখা করছে তা সংশ্লিষ্ট কোনো সূত্র জানাতে পারেনি।
তবলছড়ি এলাকার বাসিন্দা জানায়, দক্ষিণ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম নিয়ে বিভিন্নজনে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। যেসব ছাত্র এই বিদ্যালয়টিতে পড়ালেখা করেছে তাদের নিয়ে অনেকে হাসিঠাট্টাও করে। অন্যদিকে রাঙামাটির যারা সাধারণত বিদ্যালয়টি চিনে না তারাও হাসিঠাট্টা করে বালিকা বিদ্যালয়ে বালকদের পড়া নিয়ে। কোনো ছাত্র দক্ষিণ বালিকা বিদ্যালয়ে পড়লেও অনেকে বিশ্বাস করতে চায় না। কারণ মেয়েদের বিদ্যালয়ে ছেলেরা পড়ালেখা করে কিভাবে! তাই আট দশকের পুরোনো এই বিদ্যালয়ের নাম সংশোধনের দাবি প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয়দের।
এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হাসান কবীর বলেন, আমরাও বিদ্যালয়টিতে পড়েছি। কিন্তু জানি না বিদ্যালয়টির নাম বালিকা বিদ্যালয় কেন। অবশ্য এ নিয়ে অনেকেই হাসিঠাট্টাও করে।
আরেক ছাত্র হাবিবুর রহমান বলেন, এখনও যদি কোনো কারণে কাউকে বলতে হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়য় কোনটিতে পড়ালেখা করেছি উত্তরে যদি বলি দক্ষিণ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাহলে বিশ্বাসই করতে চায় না কেউ উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে বসে বালিকা বিদ্যালয়ে কিভাবে বালক হয়ে পড়ালেখা করেছি।
ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী ও পঞ্চান্ন বছর বয়সী নারী লিজা আক্তার জানান, আমরা যখন এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতাম তখনও আমাদের ছেলে বন্ধুরা পড়ালেখা করতো। হয়ত অনেক আগে শুধু মেয়েরা পড়ালেখা তাই বালিকা বিদ্যালয় রেখেছে। কিন্তু এতদিন পরও একই রাখার উচিত নয়। আমি বিদ্যালয়ের নাম সংশোধনের দাবি জানাচ্ছি।
দক্ষিণ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমেনা তাহিদা কামাল বলেন, ‘আমরা বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের জন্য একাধিবার আবেদন করেছিলাম। আমি এ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর একবার আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এ ব্যাপারে কোনো আপডেট তথ্যও আমাতের কাছে নেই।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মো. আনোয়ার বলেন, ‘বিদ্যালয়টি আসলে দক্ষিণ তবলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ার কথা। কেন আসলে এটি দক্ষিণ বালিকা হল আমার জানা নাই। তবে বিদ্যালয়ের নামটি দক্ষিণ তবলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হলেই ভাল হত। আশাকরি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে ভাববে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, ‘দেশে এমন অনেক বিদ্যালয় আছে যেখানে বালিকা লেখা আছে, কিন্তু বালকরাও পড়ালেখা করে। এ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নাই। দক্ষিণ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের কোনো আবেদন আমি হাতে পাইনি।’
