পার্বত্য জেলা রাঙামাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। কিন্তু এক বছর ধরেই রাঙামাটি সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর পদটি শূন্য রয়েছে। অতিরিক্ত হিসেবে এ দায়িত্ব পালন করছেন খাগড়াছড়ি সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী। এ কারণে প্রশাসনিক কাজে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে দ্রুততম সময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এসময় জেলার বিভিন্ন সড়ক ও সড়কের পাশের মাটি ধসে মুখথুবড়ে পড়ে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়া প্রতিবছর রাঙামাটিতে বরাবরই পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। দুর্যোগকালীন সময়ে সড়কে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। অথচ জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা কাজের গতিশীলতা ব্যাহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রকোশলী না থাকায়। এ কারণে যেকোনো প্রকল্প গ্রহণ ও প্রণয়ন করতে বেশ বেগ পেতেও হয়।
জেলা সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদ হোসেন বদলি হয়ে যাবার পর থেকে রাঙামাটির এ বিভাগে শূণ্য আছে নির্বাহী প্রকৌশলী পদটি। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পান খাগড়াছড়ি সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল। তবে এখন গুরুত্বপূর্ণ এই দুই জেলায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বেশ বেগ হতে হচ্ছে তাকেও।
রাঙামাটি শহরের প্রবীন বাসিন্দা শুভ্র প্রদীপ খীসা বলেন, গত দুই তিন বছরে মানুষের কাছে রাঙামাটির সড়ক ও জনপথ বিভাগের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। অথচ একজন প্রকৌশলীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে রাঙামাটি জেলাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে একজন নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়োগ দেবার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।
রাঙামাটি নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য সচিব এম জিসান বখতিয়ার বলেন, রাঙামাটির মত গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সড়ক বিভাগের মত প্রতিষ্ঠানে একজন নির্বাহী প্রকৌশলী না থাকাটা খুবই হতাশাজনক। নির্বাহী প্রকৌশলী থাকলে এ জেলায় সড়কের অনেক কাজ অনেক দ্রুততম সময়ে হতো
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) রাঙামাটি জেলার সভাপতি অমলেন্দু হাওলাদার বলেন, একজন নির্বাহী প্রকৌশলী দিয়ে দুই জেলা সামলানো অনেক কঠিন ব্যাপার। সরকার কেন এত বড় একটি পদ খালি রেখেছে আমাদের সেটো বোধগম্য হচ্ছে না। দ্রুত এর সমাধান করা উচিত।
এ প্রসঙ্গে জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু মুছা বলেন, ‘অনেক সময় নির্বাহী প্রকৌশলী না থাকায় তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সমস্যা হয়। যেহেতু বর্তমান দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার খাগড়াছড়ি থাকেন।’
রাঙামাটি জেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘আমার পক্ষে দুই জেলায় শতভাগ কাজ করা সম্ভব নয়। চাইলেও দুই জেলায় শতভাগ কাজ করা সম্ভব হয় না। আমিও চাই দ্রুততম সময়ে রাঙামাটি জেলায় যাতে নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া হোক।’
