বান্দরবানের পাহাড়ে চলতি মৌসুমে বিভিন্নজাতের লিচুর ভালোর ফলন হয়েছে। জেলার সাত উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে এখন গাছ ভর্তি লিচু। থোকায় থোকায় বাহারি লিচু সবার মন কাড়ছে। সেই সাথে লিচুর মৌ মৌ গন্ধ আর ছোট ছোট পাখিদের কিচির-মিচির শব্দে এলাকা মুখরিত। কারণ পাহাড়ে মাটি ও জলবায়ু লিচু উৎপাদনের জন্য উপযোগী। যার কারণে এবার সুস্বাদু ফল লিচুর ফলন গত বছরের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে।
স্থানীয় বাজার গুলোতে প্রতিদিন প্রচুর লিচু বিক্রি হচ্ছে। বান্দরবানের উৎপাদিত লিচু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। স্থানীয় বাজারে একশত লিচু বিক্রি হচ্ছে ১শ’ থেকে ১২০ টাকা। এছাড়াও চায়না থ্রি জাতের ১শ’ লিচু বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩শ’ টাকা করে। তবে এবছর অনাবৃষ্টি, খরা এবং তীব্র তাপদাহের কারণে পাহাড়ে শত শত বাগানের লিচু ও এর খোসা পুড়ে ফেটে এবং কালসা হয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে পুড়তে যাচ্ছে লিচু চাষিদের স্বপ্নও! মধু মাসের এ সময়টাতে পাহাড়ের লিচু চাষি, বাগানী ও ব্যবসায়ীরা খুশি হওয়ার কথা থাকলেও উল্টো মাথায় হাত পড়েছে তাদের। যার কারনে হতাশা দেখা দিয়েছে স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে।
স্থানীয় লিচু চাষি চাইউগ্য মার্মা ও উপশৈ থুই মার্মা জানান, চলতি মৌসুমে লিচু উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হবে। লিচু বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা পুঁজি উঠবে কি না, এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। কারণ গত বছর একশ’ লিচু বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ২শ’ টাকা হারে। কিন্তু এবছর লিচুর দাম তেমন পাওয়া যাচ্ছেনা। একশ’ লিচু বিক্রি করতে হচ্ছে ১শ’ ও ১২০ টাকা দামে। কিন্তু খরচ পড়েছে দ্বিগুন। সেই হিসেবে লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না।
চাষিদের মতে, বোম্বাই ও চায়না থ্রি জাতের লিচু বাজারে বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু এ সময়ে লিচু ফেটে চির ধরেছে, খোসায় কালো দাগ পড়ে ফেটে যাচ্ছে, লিচুর আকারও চোট, গাছ থেকে প্রতিদিনই ঝরে পড়ছে লিচু। প্রত্যেকটি বাগানে যে হারে লিচু ফেটে যাচ্ছে আর ঝরে পড়ছে এতে লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা নেই।
বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, স্বল্প খরচে পরিচর্যার মাধ্যমে অধিক লাভজনক হওয়ায় পাহাড়ে লিচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় চাষিরা। তবে এ বছর লিচুর ফলন ভালো হলেও অনাবৃষ্টি ও খরা এবং অতি উচ্চতাপমাত্রর কারণে বাগানের লিচু ঝরে যাচ্ছে। এ সময় লিচু গাছের পাতায় স্প্রে এবং গাছের গোড়ায় পানি দেয়ার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।
বান্দরবান কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খুরশিদা বেগম জানান, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হতে কৃষি প্রযুক্তি, লিচুর বাগানে সময় মত মরা ডালপালা অপসারণ, সময় মত সার প্রদান, সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় বালাই নাশক স্প্রে ও উন্নত জাতের চারা রোপন, পরিচর্যা করার পরামর্শ প্রদান করার কারনে বান্দরবানে আগের চেয়ে লিচুর ফলন অনেক ভাল হয়েছে।’
জেলা কৃষি বিভাগের মতে, জেলায় প্রতি বছর লিচুসহ ফলজ বাগান বাড়ছে। চাষিরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ জেলায় লিচুসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বাগান রয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে বান্দরবান জেলায় ১ হাজার ২০৩ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে বোম্বাই ও চায়না থ্রি এবং দেশিজাতের লিচুর চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২শ ২৮ মেট্রিকটন। তবে মাটি ও পরিবেশ অনুকুলে থাকায় বান্দরবানে প্রতিবছরই লিচুর আবাদ বাড়ছে। লিচু চাষিদের মতে, বাগানে বাগানে গিয়ে চাষিদের পরামর্শ দেওয়ার কারণে প্রতি বছর লিচুসহ ফলজ বাগানের প্রতি চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে।
